- অপরাধ ও দুর্নীতি, আলোচনা, খেলা

আইপিএল ধামাকা ক্রিকেট বন্ধ হবে না কেন?

তুষার ভট্টাচাৰ্য

এই মুহূর্তে সারা দেশ জুড়ে করোনা আবহে কুড়ি কুড়ি ওভারের ধামাকা ক্রিকেট আইপিএল লিগ কেন চলছে এই প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা ভারতের অধিকাংশ ক্রীড়ামোদী তথা সাধারণ মানুষের। করোনা মারণ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রতিদিন শয়ে শয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে।

এদিকে প্রাথমিকভাবে এই মারণব্যাধির মোকাবিলায় চূড়ান্তভাবে ওষুধের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।

সমগ্র দেশে অক্সিজেনের অভাব, জরুরি ওষুধ রেমসেডেভিয়ারের অভাব, হাসপাতালে বেডের অভাব, রোগীদের আত্মীয় পরিজনদের হাহাকার, সবমিলিয়ে এই দুঃখজনক করুণ চিত্রের বিপ্রতীপে দেখা যাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (সংক্ষেপে বিসিসিআই) কুড়ি কুড়ি ওভারের ধামাকা ক্রিকেট লিগ প্রতিযোগিতা আয়োজন করে মুনাফার সন্ধানে ব্যস্ত রয়েছে।

ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নয়ন নয়, আসলে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের এই ধামাকা ক্রিকেট আয়োজনের মূল উদ্দেশ্যই হল প্রচুর টাকা রোজগার করা।

তাই দেখা যাচ্ছে দেশজুড়ে এই করোনা মারণ ব্যাধির আবহেও বিসিসিআই এই নাচাগানা প্রমোদমূলক আই পি এল ক্রিকেট লিগ কোনওমতেই বন্ধ করতে রাজি নয়। এযেন সেই নিরোর বাঁশি বাজানোর মতো। রোম জ্বলছে জ্বলুক।

এমনিতেই সীমিত ওভারের ক্রিকেটের আবির্ভাবের ফলে ধ্রুপদী টেস্ট ক্রিকেট হারিয়ে যেতে বসেছে। আশির দশকে টেস্ট ক্রিকেটের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দিয়ে গেছেন অষ্ট্রেলিয়ান ধনকুবের কেরি প্যাকার, সীমিত ওভারের ক্রিকেট চালু করে। তিনি এই ক্রিকেট চালু করেছিলেন ব্যবসায়িক স্বার্থের অর্থাৎ প্রচুর মুনাফার জন্য।

তাঁর দেখাদেখি এই দেশেও আশির দশকে ভারতে চালু হয়েছিল জে লিগ ( জি টিভির মালিক সতীশ চন্দ্রর উদ্যোগে প্রাক্তন ক্রিকেটার কপিলদেবকে সঙ্গে নিয়ে)। যদিও সেই উদ্যোগ ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়নি একদমই।

এর পরবর্তীতে শূন্য দশকে ললিত মোদির (বর্তমানে দেশ থেকে পলাতক)উদ্যোগে ভারতে চালু হল ধামাকা ক্রিকেট টি – টোয়েন্টি আই পি এল লিগ।

কোটি কোটি টাকা রোজগার করা ছাড়া এই লিগের কোনও মহৎ উদ্দেশ্যে আদৌ ছিল না। বর্তমানে এই ধামাকা লীগের পৃষ্টপোষণা করছে বিসিসিআই। এর পিছনে রয়েছে শুধু মুনাফার মধু। আর সহজেই প্রচুর টাকা মুনাফা করা যায় বলে এই দেশের তাবড় তাবড় সিনেমা প্রযোজক থেকে অভিনেতা অভিনেত্রী, শিল্পপতিরা সবাই ঝাঁপিয়ে পড়েছে আই পি এলের দল কেনার জন্য। রিলায়েন্স কোম্পানির মালকিন নিতা আম্বানি থেকে শুরু করে অভিনেতা শাহরুখ খান, অভিনেত্রী প্রীতি জিন্টা, শিল্পা শেঠি প্রমুখ আই পি এলের ফ্রানচাইজি দলের মালিক। এই আই পি এল লীগের জন্যই শতবর্ষ প্রাচীন রঞ্জিট্রফি, দলীপ ট্রফি, দেওধর ট্রফি একদমই ফিকে, জৌলুসহীন হয়ে পড়েছে।

বস্তুত, ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডকে, সারা দেশজুড়ে এই করোনা অতিমারির ক্রান্তিকাল সময়ে, এই ধামাকা ক্রিকেট লিগ প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাওয়া উচিৎ কিনা সে ব্যাপারে যথার্থ ভাবনা চিন্তা করা জরুরি।

এই প্রতিযোগিতায় বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য যে কোটি কোটি টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে সেই টাকা দিয়ে দেশের যেকোনও রাজ্যে কয়েকটি অক্সিজেন প্ল্যান্ট তৈরি করা যেতে পারত।

কিন্তু দেখা যাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সেই সুবিবেচনা আদৌ নেই। নইলে এই মৃত্যু উপত্যকায় এখন কী ধামাকা নাচা গানা ক্রিকেট প্রতিযোগিতার কোনও প্রয়োজন রয়েছে। তাই শেষ পর্যন্ত বলতেই হবে – শুধু ক্রিকেট ক্রিকেট মন নাই তোমার বিসিসিআই ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *