- আলোচনা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সমাজ ও পরিবেশ

বিশ্ব রাজনীতির অংশ হয়েও কেন ধুঁকছে করোনা ভাইরাসের উৎস অনুসন্ধান?

তন্ময় সিংহ রায়

Wuhan Institute of Virology?

Wuhan Seafood Market থেকে, না ২০১৯ সালের অক্টোবর মাস নাগাদ উহানে এক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসা মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি দল ছড়িয়ে গেছে এই করোনা নামক মারণ ভাইরাস?

এটা কোনও জীবজন্তুর দেহ থেকে প্রকৃতিগতভাবেই মানুষের শরীরে প্রবেশ করে সমগ্র বিশ্বব্যাপী ধারণ করেছে অতিমারি রূপ, নাকি উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটা প্রয়োগ করা হয়েছে মানুষের দেহে?

বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া, ওয়েবসাইট ও দেশ-বিদেশের নানান সংবাদ মাধ্যমে যেন সাধারণত এই প্রশ্নগুলোই তাদের যোগ্য উত্তর পাওয়ার জন্যে এক তীব্র দুঃখ-কষ্টকে বুকে চেপে নিয়ে ছটফট করে বেড়াচ্ছে অসহায়ভাবে দিবারাত্রি!

শুধু কি তাই? এ সন্দেহের বাণ ছুঁড়ছে ও-কে, আবার ও দোষারোপ করছে এ-কে!

চিন ও ইরানের ভেতর থেকে সন্দেহের তীর তো যুক্তরাষ্ট্রের দিকে, আবার আমেরিকা প্রায় সেই প্রথম থেকেই কাঠগড়ায় আসামি হিসেবে তুলে রেখে দিয়েছে Wuhan Institute of Virology-কে!

প্রায় সমগ্র পৃথিবীর অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা সার্চ ইঞ্জিন ব্রাউজার হিসেবে গুগল ক্রোম (Google Chrome) একপ্রকার নিশ্চিন্তে ব্যবহার করে থাকেন যেখানে, সেখানে চিন তার দেশের মধ্যে ব্যবহার করে UC Browser ও Baidu!

বিশ্বের প্রায় ১৮০টা দেশ জুড়ে যেখানে হোয়াটসঅ্যাপ ২ বিলিয়নের বেশি, সেখানে চিন ব্যবহার করে শুধুমাত্র উইচ্যাট।

অনলাইন কেনাকাটায় বিশ্বের বৃহত্তম প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজন (Amazon), সেখানে চিনবাসীকে ব্যবহার করতে দেওয়া হয় আলিবাবা (Alibaba)।

শুধু তাই নয়, প্রায় সারা পৃথিবীতে নির্দ্বিধায় যেখানে ব্যবহার করা হয় Gmail, সেখানে চীনে ব্যবহৃত হয় QQmail! বর্তমানে Social Media-র অতি জনপ্রিয় ও বৃহত্তম Platform হিসাবে উঠে আসে একটি নাম Facebook, ২০১৯-এর এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী সারা বিশ্বে Facebook users 2.5 Bi।। ion, সেখানে চিনের Social Networking Site renren.com!

আর এভাবেই Twitter-এর পরিবর্তে Weibo ও YouTube- এর বদলে Youku ব্যবহার করে থাকেন সে দেশের মানুষজন!

এত গোপনীয়তা কেন? অতিরিক্ত গোপনীয়তাই তো জন্ম দেয় সন্দেহের? বিশ্বের ১৯৪ থেকে ৯৫টা স্বাধীন কোন রাষ্ট্র এ ধরণের গোপনীয়তার অভাবে ধ্বংসের পথে?

চিনের ভিতরে Socia। Media-তে মানুষজন তো বেমালুম ও প্রায় ক্রমাগতই লিখছে বা লেখে এবং Share-ও করছে। যে, চিনকে শায়েস্তা করতে যুক্তরাষ্ট্র জীবাণু অস্ত্র হিসাবে এই Virus ছড়িয়ে দিয়ে গেছে চিনে।

শুধু Social Media কেন? একজন চিনা কূটনীতিক তার Twitter account-এ এক Post-এ একেবারে সরাসরি ইঙ্গিত করেছেন যে, Wuhan-এ ২০১৯ সালের October মাসে এক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসা মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি দল ছড়িয়ে দিয়ে গেছে এই বিধ্বংসী মারণ Virus!

ইরানের Islamic Revolutionary Guard-এর Commander Major general হুসেইন সালামি তো একদম সরাসরি বলেছেন যে, করোনাভাইরাস যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি জীবাণু অস্ত্র!

জে. সালামি উল্লেখ করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে চীনে এবং পরে ইরানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে জীবাণু অস্ত্রের!’

পরবর্তীতেই ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির একজন প্রভাবশালী সদস্য হেশমাতোল্লাহ ফাতালহাতপিশে মন্তব্য করে বসেন, ‘ট্রাম্প এবং পম্পেও করোনা নিয়ে ডাহা মিথ্যে কথা বলছেন, এটা কোনও সাধারণ রোগই নয়, বরং এটা ইরান এবং চিনের বিরুদ্ধে জীবাণু অস্ত্রের এক পরিকল্পিত হামলা!’

চিনের ৩৪ বছর বয়স্ক এক ডাক্তার (Ophtha। mologist) ওয়েনলিয়াং ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসেই করোনার প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে তাঁর সহকর্মীদের এক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সেই মুহুর্তে হঠাৎই তিনি মারা গেলেন করোনা আক্রান্ত হয়ে!

ওয়েনলিয়াং-এর মৃত্যু কি করোনা সংক্রমিত হয়েই হয়েছিল? মৃত্যু যদি করোনা আক্রান্ত হয়েই হয়, তো চিন সরকার বিশেষ দায়িত্বসহকারে সেই মুহুর্তে বিষয়টার গুরুত্ব অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিজেদের সরকার, বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র দ্বারা সেই মুহুর্তে সতর্কতা জারি করেনি কেন সমগ্র পৃথিবীবাসীকে?

তবে তো আগে থেকেই বিশ্ববাসী অনেক বেশি সতর্ক ও মুক্ত থাকতো করোনার এই নৃশংস আক্রমণ ও মৃত্যু থেকে।

‘UNRESTRICTED WARFARE’ (China’s master plan to destroy America)-নামক একটা বই চিনে প্রকাশিত হয়েছিল ২০০২ সালে, যার সংক্ষিপ্ত বিষয়বস্তু এমন যে, ‘আমেরিকা আমাদের চেয়ে অনেক শক্তিধর একটি রাষ্ট্র। আমরা সরাসরি এঁদের যুদ্ধে হারতে পারবো না, হারাতে গেলে কিছু ছল-চাতুরী ও কৌশল অবলম্বন করতে হবে।’

এই গ্রন্থ তবে ভবিষ্যতে কি ঈঙ্গিত দেয় বিশ্ববাসীকে?

প্রবীণ Virus বিশেষজ্ঞ বোটাও জিয়াও এবং লেই জিয়াও ‘The possible origins of 2019-nCoV coronavirus’ নামক শিরোনামের একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছিলেন Research Gate-এ, যে Journa। -এ বলা হয়েছে, ‘Virus-টি এই। aboratory থেকে ছড়াতে পারে বলে আমরা বিশ্বাস করছি, তবে শক্ত প্রমাণ পেতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।’ কোথায় সেই গবেষণা?

অবসরপ্রাপ্ত America- এর President ডোনাল্ড ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সাথে ২০২০-র প্রথম ভাগের দিকে এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, ‘Wuhan Institute Of Virology’ থেকেই সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে COVID- 19!’ এবং এর সপক্ষে তাঁর কাছে নাকি আছে প্রমাণও। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ এক বা একাধিক সেই প্রমাণ যে ঠিক কি, তা আজও কৃষ্ণগহ্বরের জমকালো অন্ধকার গর্ভে আছে পড়েই!

চিনের এক চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও ভাইরাসবিদ লি-মেং ইয়ান তো রীতিমতন এক জোরালো দাবি করেন বসেন যে, Corona Virus প্রাকৃতিক নয় এবং চিন তা তৈরি করেছে গবেষণারেই। Corona Virus-এর সংক্রমণের সময় Wuhan-এ Pneumonia নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এমনই তথ্য তাঁর হাতে এসেছে বলে তিনি জানিয়েছেন, এবং গোটা বিষয়টা চীন যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে ধামা চাপা দেওয়ার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এ বিষয়ে পালন করছে বোবা’র ভূমিকা!

যুক্তরাজ্যের একটা সংবাদ সংস্থাকে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, গবেষণা করতে গিয়েই তিনি দেখতে পান যে, CC45 এবং ZXC41 নামের ওই দুটো Corona Virus থেকেই Novel Corona Virus তৈরি করা হয়েছে আর পরীক্ষাগার থেকে তা ছড়িয়ে পড়ে বাইরে!

পরবর্তীতে হয়তো বাদুড় বা ওই জাতীয় কোনও প্রাণীর থেকে Viral Strain নিয়ে সেই Virus’কে রাসায়নিক ভাবে করে তোলা হয়েছে আরও বেশি শক্তিশালী, যাতে তা মানবশরীরে ঢুকে মুহূর্তেই বিভাজিত হয়ে তৈরি করতে পারে অসংখ্য প্রতিলিপি।

চিন সরকারের বিরুদ্ধে এ তথ্যের পর্দা জনসমক্ষে তুলে ধরায় বিজ্ঞানীকে দেওয়া হয় প্রাণনাশের হুমকিও! তাঁর সমস্ত তথ্য মুছে ফেলা হয় সরকারি Database থেকে, এবং তাঁর সম্পর্কে গুজব ছড়ানোর মিথ্যে অভিযোগ ও মিথ্যেবাদী প্রমাণ করার জন্য এমনকি লোক পর্যন্ত নিয়োগ করা হয়!

HongKong-এ নিজের বাড়িতে ফিরতে পারবেন কিনা আর কোনওদিনও, ও তাঁর পরিবারের জীবন সংকটময় জেনেও প্রাণভয়ে অগত্যা তিনি বাধ্য হন আমেরিকায় চলে যেতে! বর্তমানে বিশ্বের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানীর সঙ্গে এ বিষয়ে নতুন করে গবেষণা শুরু করেছেন তিনি, এবং সময় আসলে গোটা বিশ্বকে তিনি এ বিষয়ে আরও অনেক তথ্য দেবেন বলেও জানিয়েছেন।

এ ঘটনার রহস্যটাই বা ঠিক কি?

সব কেমন যেন জড়ানো-প্যাঁচানো এক দীর্ঘ সুতো, যার উৎস তো আছে ঠিকই, কিন্তু ঠিক কোথায়? তা যেন খুঁজে পেয়েও, যাচ্ছেনা পাওয়া বা আদৌ দেওয়া হচ্ছে না খুঁজে বের করতে। এই বিধ্বংসী মারণ Virus-এর নৃশংস আক্রমণে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত বা সর্বশান্ত হয়ে প্রায় সমগ্র বিশ্বের মানুষের জীবন আজ দুর্বিষহ!

সমগ্র বিশ্বব্যাপী এই ভয়াবহ তান্ডবলীলা ও মৃত্যু উপত্যকার বুকে হতবাক দাঁড়িয়ে প্রশ্ন আসা কি স্বাভাবিক নয় যে, এর উৎস ও কারণ অনুসন্ধান তবে আজ পৃথিবীর রাজপথে ধুঁকছে কেন? এই অনুসন্ধান কি অন্যায় কোনও পদক্ষেপ?

যদি সব উত্তর না হয় তবে, MOSSAD, CIA, MI6, FSB, BND কিংবা RAW প্রভৃতি পৃথিবীর এত তাবড় তাবড় গোয়েন্দা সংস্থা থাকা স্বত্তেও এখনও পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের উৎস, এই ভাইরাস মানুষ দ্বারা সৃষ্ট কি না, ও পৃথিবীব্যাপি এর মহাসংক্রমণের সঠিক কারণ অনুসন্ধান প্রক্রিয়া স্তব্ধ কেন?

তবে বিষয়টা কি ধীরে ধীরে এভাবেই চাপা পড়ে যাচ্ছে কালগর্ভে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *