মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে ফির পেলো পরিবার

শ্যাম বিশ্বাস, উত্তর ২৪ পরগনা: গত ৫, বছর আগে বিহারের পশ্চিম চম্পারন জেলার কাবালা গ্রামের বছর ৪৫ এর সঞ্জীব মাছুহার তাঁর স্ত্রী ও ৫ বছরের সন্তান রেখে নিখোঁজ হয়ে যায়।
সঞ্জীবেরা পাঁচভাই স্ত্রী সহ একাধিক আত্মীয়-স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও খোঁজ পাওয়া যায় না তার। তারপর সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং বিভিন্ন সাইটে  তার ছবি পোস্ট করেও খোঁজ পাওয়ার চেষ্টা করলেও তার আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরিবারের লোকজন স্থানীয় থানায় নিখোঁজের অভিযোগ জানায়। তৎপর হয় পুলিশ। তাতেও সুরাহা মেলে না। অসহায় হয়ে যায় স্ত্রী ও সন্তান। তাদের আর্থিক অবস্থা দিনদিন খারাপের পথেই এগোচ্ছিল।
 বিহারের বাসিন্দা সঞ্জীব তার মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে এখানে ওখানে ঘুরতে ঘুরতে অবশেষে তার ঠিকানা হয় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একেবারে প্রান্তিক জায়গায় হিঙ্গলগঞ্জ বাজার এলাকায়। সেখানেই
ঘোরাঘুরি করতে থাকে ওই ব্যক্তি। সেই সময় স্থানীয় এক ইঞ্জিনিয়ার তথা তারক চক্রবর্তীর ও  সমাজসেবী সুশান্ত ঘোষের নজরে আসলে নিজেদের অর্থ ব্যয় করে তাকে প্রথমে শারীরিকভাবে সুস্থ করে, ওষুধ খাওয়ানো হাসপাতালে চিকিৎসা করার পাশাপাশি দুইবেলা আহারের ব্যবস্থা করে। অন্যদিকে আশ্রয় দেওয়া সবটাই করতে শুরু করেন তারা।
ঘটনাটি ঘটেছে  বসিরহাট মহাকুমার হিঙ্গলগঞ্জ থানার হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের সুন্দরবনের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রান্তিক জায়গায় হিঙ্গলগঞ্জ এলাকার ঘটনা।
তারপর এই সমাজসেবীরা হ্যাম রেডিওর মাধ্যমে যোগাযোগ শুরু করেন। হ‍্যাম রেডিওর সম্পাদক অম্বরিশ নাথ বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তার ছবিসহ পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা জানান। এরপর হ্যাম রেডিও আধিকারিকরা বিহার পুলিশ প্রশাসনকে জানালে। ছবি দেখে নিখোঁজ ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া যায়।তারপর তার মাছুহার গ্রামের পরিবারকে জানানো হয়। এরপর নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রী রাবড়ি দেবী ভাই রমাকান্ত মাছুহার, আজ হিঙ্গলগঞ্জ বাজারে গিয়ে তাদের উপযুক্ত প্রমান তথ্য দিয়ে একদিকে স্ত্রী স্বামীকে ফিরে পেল।অন্যদিকে ভাই দাদাকে ফিরে পেল। খুশির হাওয়া মাছুহার পরিবারে।
 ইঞ্জিনিয়ার তারক চক্রবর্তী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তার সব রকম শারীরিক মানসিক চিকিৎসা খাবারে বন্দোবস্ত নিজেরদের আশ্রয় রেখে  তার পরিবারের হাতে তুলে দিতে পেরে আমরা খুশি।
বিশিষ্ট সমাজসেবী সুশান্ত ঘোষ বলেন, ১৯৯৫ সাল থেকে এই ২০২২ এর আজ ২০ শে,ফেব্রুয়ারি  এ পর্যন্ত মোট ৭২ জন দুস্ত ভবঘুরে মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষদের দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাদের পরিবারের হাতে  তুলে দিতে পেরে আমরা রীতিমতো খুশি। আর আমাদের পাশে থেকে সবসময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে হ্যাম রেডিও।
সঞ্জীব কে ফুলের মালা পরিয়ে  মিষ্টি খাইয়ে তাকে তার পরিবারে হাতে তুলে দিল উদ্যোক্তারা, এরকম একটি সমাজসেবামূলক কাজের জন্য এলাকার মানুষ সাধুবাদও আশীর্বাদ জানিয়েছেন এই সমাজসেবীদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


টাচ করুন, দেখুন আপনার প্রিয় অভিনেত্রীদের অসাধারণ সব ফটো


error: Content is protected !!