আলোচনা, রাজনীতি

বিধানসভা যাঁর সেথায় পার্টি অফিস তাঁর

Hits: 12

1
(1)

পাঠক মিত্র

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলায় রাজনৈতিক নেতাদের দলবদল একপ্রকার স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে পড়ছে। যে ঘটনা থেকে বলা যায় যে রাজনৈতিক নেতা নেতার জায়গায়, কিন্তু তাঁর দল কোনটা, এ প্রশ্নের উত্তর সেই নেতাও জানে না হয়তো। গিরগিটির মত পরিস্থিতি অনুযায়ী রঙ বদলে ফেলে তাঁরা। আর এই রঙ বদলে ফেলা নেতাদের নিয়ে দল বৃদ্ধি হয় বটে, কিন্তু দল সমৃদ্ধ হয় কিনা তা সেই দলই বলতে পারে। তবে নেতাদের এই দলবদলে মানুষের কিছু যায় আসে না। মানুষের কিছু নাইবা যায় আসুক। দলের যায় আসে। তাই নেতাদের দলবদল নিয়ে দলের নেতাদের মন্তব্য অনেক কিছু বলে। তবে শুধু নেতা নয়, ভোটে জেতার পর জয়ী নেতারাও দলবদল করে ফেলে। এই নেতারা তখন মানুষের কথা ভাবে, না দলের কথা ভাবে তা বলা মুশকিল। তা আইনি কি আইনি নয়, সে নিয়ে চর্চার শেষ নেই। তবে এটাই মনে হয় নেতাদের গণতন্ত্র। সে যাই হোক। সম্প্রতি এক নেতার দলবদলে বাংলার রাজনীতির চর্চা একটু অন্যমাত্রা নিয়েছে। সেই দলবদলে আইনি নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি। কিন্তু যে-স্থানে দলবদলের প্রক্রিয়া ঘটল তা নিয়েই নেতাদের চর্চা যে বাংলায় রাজনীতির সংস্কৃতি কলুষিত হল কিনা। দলবদল এখন রাজনীতির সংস্কৃতি। সেখানে আদর্শ নিয়ে কখনো কোনো প্রশ্ন থাকে না। কিন্তু এই দলবদলের স্থান নিয়ে আদর্শ নয়, রাজনীতির সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আর সেই স্থান হল বাংলার বিধানসভায়।

বিধানসভায় পরিষদীয় মন্ত্রী তাঁর ঘরে তাঁর দলের পতাকা তুলে দিলেন এক দলবদলু নেতার হাতে। আসলে ওই দলবদলু নেতা তৃণমূল থেকে বিজেপি এবং বিজেপি থেকে আবার তৃণমূলে যোগ দিলেন বিধানসভায় পরিষদীয় মন্ত্রীর ঘরে মন্ত্রীর হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা নিয়ে। গণতন্ত্রে দলবদল নিয়ে যতই কথা হোক না কেন, দলবদলের এ দৃৃৃৃশ্য মনে হয় এই প্রথম। এতদিন দলীয় অফিসে কিংবা দলীয় মঞ্চে দলবদল করে নেতাদের নতুন দল বা তাঁর পুরনো দলে যোগদান করতে দেখা গেছে। কিন্তু এই দলবদলে সেই নেতাকে গণতন্ত্রের মন্দিরে যোগদান করার ব্যবস্থা হল। এই ঘটনায় বিরোধী দলনেতা ও তাঁর দলীয় প্রতিনিধিগণ হইচই করেছেন বটে। কিন্তু শাসক দল তা পাত্তাই দিতে নারাজ। শাসক দলের কেউ বলেছেন, এতে কোনো অন্যায় হয়নি। তাছাড়া কোথাও লেখা আছে নাকি এভাবে দলবদলের অনুষ্ঠান করা যাবে না। এ কথা ঠিক। সব কথা লেখা থাকলেই যে সবাই মানে তা ত নয়। তা দুর্নীতিতে জড়িত নেতাদের কথা ধরে বলা যায়। জনপ্রতিনিধি ঈশ্বরের নামে শপথ নেন বটে, কিন্তু ক’জন সেই শপথ রক্ষা করেন। এটাও কিন্তু আজ ওপেন সিক্রেটের মত। তাহলে লেখা থাকলে বা শপথ নিয়েও যখন তা স্মরণে থাকে না, তখন যা লেখা থাকে না তা নিয়ে এত হইচই কেন।

আর একটা কথা। গণতন্ত্রের মন্দির জনগণের ট্রাস্টিতে চলে। জনগণের এই ট্রাস্টি যাঁকে যখন দেয় তা পাঁচ বছরের জন্য দেয়। এই পাঁচ বছর তখন জনগণের আর কোনো ক্ষমতা থাকে না। তখন সব ক্ষমতা তাঁদের যাঁরা এই মন্দিরের পূজারি। কারণ তাঁরাই ত এই মন্দির দেখভাল করেন। সে যাই হোক। গণতন্ত্রের এই মন্দিরে এই নেতার দলবদলে বলা যেতে পারে, এতদিন যত দলবদলের ঘটনা ঘটেছে, এই ঘটনা সেরা ঘটনা। তার মানে দলবদলু নেতার গুরুত্ব পূজারিদের কাছে বেশি বলেই কি তাঁকে মন্দিরে ডাকতে হল। নাকি এর পিছনে অন্য কিছু। এই মন্দিরে সবার জন্য প্রবেশাধিকার থাকে না। কিন্তু সেই দিন তাঁর প্রবেশাধিকার অনুমতি ছিল নিশ্চয়।

শাসকদলের এক নেতা বলেছেন বিধানসভায় সব দলের জন্য ঘর থাকে। আর দলের জন্য ঘর থাকলেই সেই ঘর কি দলীয় কার্যালয় হিসেবে গণ্য করা হয় ? এ প্রশ্নের উত্তর এই লেখকের জানা নেই। তবে শাসকদলের নেতার কথা থেকে সেই উত্তর ধরে নেওয়া যায়। তবে সব দলের ঘরের সঙ্গে পরিষদীয় মন্ত্রীর ঘর সমমর্যাদার কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন করলে ভুল হয়ে যায়। এ প্রশ্ন কিন্তু কেউ করেনি। সাধারণ বুদ্ধিতে পরিষদীয় মন্ত্রীর ঘর সরকারি ঘর হিসেবে না-ধরলে কি খুব ভুল হবে। নাকি পরিষদীয় মন্ত্রীর ঘর মানেই সেই ঘরে মন্ত্রী যা-কিছু করতে পারেন। এমনকি তাঁর দলীয় কার্যালয় হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন। জনগণের ট্রাস্টি থেকে মন্দিরের দায়িত্ব পেলে এমনটা হতে পারে। মন্দির থেকে জনগণের মঙ্গল কামনা যখন করা হয়, তখন সেখানে দলীয় কার্যালয় হিসেবে কাজ করা যাবে না, তা কি করে হয়। তাঁর দল যখন ট্রাস্টির দায়িত্ব পেয়েছেন, তখন তাঁর দলের কাজকর্ম মানেই ত মানুষের জন্য কাজকর্ম। আর এই দলবদল ত মানুষের জন্যই। এটা ঠিক যে মানুষের জন্য দল কাজ করে, নেতা করে। কিন্তু সেই কাজে মানুষের স্বার্থ কতটুকু থাকে ? এ প্রশ্নের উত্তর যদিও বলে দেয় মন্দিরের দায়িত্বে কে।

তবে একটা কথা মন্দিরের দায়িত্ব মানেই কি নিজের মত করে, নিজেদের মত করে মন্দির ব্যবহার করা যায় ? এ প্রশ্ন যে যাঁর মত করে দিতে পারে ঠিকই। তবে বিধানসভায় পার্টি অফিস খোলা যায় কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। আর এই প্রশ্ন নিয়ে বলা যায়, এবার থেকে বিধানসভা যাঁর সেথায় পার্টি অফিস তাঁর।

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?

আপনার ভালোলাগা অনুযায়ী স্টার-এ ক্লিক করুন!

এই পোস্টটি রেটিং করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ!

No votes so far! Be the first to rate this post.