আলোচনা, রাজনীতি, সমাজ ও পরিবেশ

বঞ্চনার কেন্দ্রে রাজ্য না মানুষ?

Hits: 3

0
(0)

পাঠক মিত্র

ইয়াস বাংলা ও ওড়িশা রাজ্য দুটির উপকূলবর্তী অঞ্চলে তান্ডব চালিয়েছে। উপকূলবর্তী অঞ্চলের মানুষ বিপর্যস্ত। মানুষের বিপর্যয়ে রাজ্য সরকার দুটি তাদের অধিবাসীর পাশে দাঁড়িয়ে ইয়াশের মোকাবিলা করেছে। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতা থেকে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে। কিন্তু এই মূহুর্তে ওড়িশা সরকার তাঁর রাজ্যবাসীর পাশে কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়াই সক্ষম বলে জানিয়েছেন। যেখানে বাংলা কেন্দ্রের কাছে কুড়ি হাজার কোটি টাকার ত্রাণ প্যাকেজ দাবি করে আবেদন করেছেন। ওড়িশা সরকার সারা দেশে এক নজির সৃষ্টি করেছে কিনা তা নিয়ে রাজনৈতিক তর্ক থাকতে পারে। কিন্তু এই মূহুর্তে বাংলাকে অপ্রস্তুতে ফেলে দিয়েছে। বাংলার প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনা শুনতে শুনতে বাংলার মানুষ চল্লিশ বছর ধরে শুনে এসেছে। এখনও শুনছে। অথচ আমরা বিপর্যয় মোকাবিলায় ওড়িশার থেকে যে অনেক পিছিয়ে আছি, তা প্রমাণ হয়ে যায়। কিন্তু সেখানেও রাজনৈতিক তর্ক থাকতে পারে। তবে তর্ক নিয়েই গত আমফানে কলকাতার রাস্তা ওড়িশা সরকারের বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে পরিষ্কার করতে আনা হয়েছিল। কলকাতা শহর রাজ্যের রাজধানীকে বিপর্যয় পরবর্তী স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসার জন্য প্রশাসনের ব্যর্থতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। আর সেই ব্যর্থতার জন্য বিভিন্ন প্রশাসনিক চাপানউতোর দেখিয়ে দিয়েছে পরস্পর সমন্বয়ের অভাব। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর রাজনৈতিক অধিকার একমাত্র শাসক দলের, তাই বিভিন্ন সংস্থার ত্রাণের কর্মসূচিতে শাসকদলের বাধা কোনো নতুন গল্প নয়। যদিও এ ঘটনার পাল্টা যুক্তি অনেক থাকে। আসলে মানুষের দুর্দিনে শাসক দলই দাঁড়ায় বলে প্রমাণ করতে সুবিধা হয়।

কিন্তু না, এবার বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য বাংলার প্রশাসনিক তৎপরতা ও ব্যস্ততা প্রশংসার দাবি রাখে। তবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে বিরোধী দলের এক নেতাকে তৃণমূলের নেতার চড় মারার খবর মানুষের পাশে থাকার চেয়ে সেই ক্ষমতা দেখানোটাই বেশি।

যাই হোক। আজ এই বিপর্যয়ে বাংলার প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনা নিয়ে সরব হওয়াটা রাজনৈতিক মঞ্চে অনেকটা ম্লান করে দিয়েছে ওড়িশা। বাংলার উন্নয়নের গর্ব এই জায়গায় ওড়িশা একটু হলেও ঘা মেরেছে। তবে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা বা কেন্দ্রের অবহেলা নিয়ে তর্কবিতর্কের মাঝে বলা যায়, বাংলার সরকারকে বঞ্চনা করতে গিয়ে বাংলার মানুষকে বঞ্চনা করা। বাংলার মানুষের রায়ে এবার বাংলার তখ্ত আসেনি বলে কেন্দ্রের ব্যবহার যে একেবারে ধরা পড়ে না তা নয়। গত আমফান থেকে জিএসটির প্রাপ্য নিয়ে রাজ্য সরব হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রের তরফে তার সদুত্তর সেভাবে বাংলার মানুষ পায়নি। ইয়াশের বিপর্যয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী র বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি। হয়নি তার কারণ মিটিংটাই হয়নি। এই মিটিং নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূল বা কেন্দ্র বনাম রাজ্যের তর্ক চলছে। এই তর্ক ধরে পুরোনো একটা প্রবাদ মনে পড়ে যাচ্ছে। রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় আর উলুখাগড়ার প্রাণ যায়। অথচ ফেডারেল স্ট্রাকচার, সংবিধান কত কথা উঠে আসে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে ফেডারেল স্ট্রাকচার ও সংবিধান বড় হয় তখন, যখন তাঁদের সরকার সত্যি পাশে থাকে। মানুষের পাশে থাকার জন্য মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর পায়ে পড়তে রাজি আছেন বলে মিডিয়ায় যে প্রচার পাচ্ছে তাতে তিনি যে বিজেপির থেকে আরো এককদম এগিয়ে গেলেন তা একবাক্যে বলা যায়। বাংলার গ্রামের মানুষের ভাষা বলে তিনি তাঁদের কাছে পৌঁছতে পারার ক্ষমতা যে রাখেন তা আবার প্রমাণ করতে চলেছেন। তাঁর এই ভাষায় ওড়িশা সরকারের থেকে পিছিয়ে থেকেও বাংলার মানুষের কাছে এগিয়ে চলেছেন। প্রশাসনিক ভাবে বাংলাকে বেকায়দায় কেন্দ্র ফেলতে চাইলে বাংলা সরকারের রাজনৈতিকভাবে যে লাভ হবে তা কেন্দ্র ভুলতে বসে তাঁর প্রতিহিংসার রাজনীতিতে। সে চর্চা ই চলছে ইয়াশের মত এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়েও। করোনা ও ইয়াশের মোকাবিলার মধ্যে বাংলার মুখ্যসচিবের বদলি প্রতিহিংসার সেই প্রশ্ন বিশিষ্টজনেদের ভাষায়। বিপর্যয়ের সময় যে বাংলার প্রতিটি নাড়ির শব্দ চেনে ও জানে, সেরকম এক অফিসারকে বদলি করা রুটিন বললেও তা রুচির পরিচয় যে নেই তা বলা যায়। আসলে বিরুদ্ধ মতের মানুষদের হেনস্থা করা শুধু নয়, বিরুদ্ধ মতের রাজ্য সরকারকে হেনস্থা করা কেন্দ্র সরকার সংবিধানের দোহাই পাড়তে পারে, কিন্তু তাঁর এই বিধান দিতে সং সাজতে যে হচ্ছে তা পরিষ্কার। যাই করুন না কেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ বাঁচার মত যাতে বাঁচতে পারে তা থেকে বঞ্চিত না হয়। তা দেখার রাজ্য সরকারের যতটাই দায়িত্ব ততটাই কিন্তু কেন্দ্রের। বিপদগ্রস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক সব বিভেদ ও দ্বেষ থাকলে মানুষের বিপদ কখনো ঘোচানো যায় না।

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?

আপনার ভালোলাগা অনুযায়ী স্টার-এ ক্লিক করুন!

এই পোস্টটি রেটিং করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ!

No votes so far! Be the first to rate this post.