আলোচনা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সমাজ ও পরিবেশ

ডেঙ্গু প্রতিরোধ, আমরা পারব

Hits: 66

সাফিকুল ইসলাম

‘করোনা আতঙ্ক’ মানুষ ভুলতে চাইছে। কিন্তু এর বাস্তবতায় সীলমোহর দেবে একমাত্র সময়ই। আমরা মানবজাতি আমাদের করণীয়, কোভিড-১৯ কে প্রতিরোধ করার উপায় অবলম্বন করে এই ভাইরাসকে প্রতিরোধ করা। এই মারণ ভাইরাসকে নিয়ে প্রতিনিয়ত সংযোজন বিয়োজন হয়েছে এবং হচ্ছে। আগামীতেও হতে থাকবে, যতক্ষণ না এই আরএনএ ভাইরাস এর চক্রকে ধ্বংস করবার একমাত্র শেষ অস্ত্রটি আবিষ্কার না হচ্ছে। অনেক মন্দ খবর আমাদের কপালে চিন্তার ভাঁজকে প্রকট করছে। আবার অনেক ভালো খবর আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে অক্সিজেন যোগাচ্ছে। নাট্যমঞ্চে জীবনচক্রের নিয়ম হয়তো বা এটাই। করোনা ভাইরাস থেকে দূরে থাকতে আমরা মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, দূরত্ববিধি, কতই না নিয়মে জীবনকে অভিযোজিত করেছি। তবুও এই মারন ভাইরাসের লম্বা হাত আমাদের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। নিয়ম-নীতি মেনে চলাই কিছু যে উপকার হয়নি তা বলাটা অবৈজ্ঞানিক হবে কারণ এই মেনে চলার মধ্যেই বৃহত্তর ধ্বংসের রোষানল থেকে মানবজাতি বৈজ্ঞানিক মতে সুরক্ষিত হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। তবে এই করোনাভাইরাসের লালায়িত ছোবল থেকে পাকাপাকি উদ্ধার পেতে একে শৃংখলবদ্ধ করতে হবে। যা এখন সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু এরই মাঝে ‘ডেঙ্গু’ প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরেও অত্যাধিক সক্রিয়। তবে এই বিষয়ে করোনাভাইরাস কে প্রতিহত করতে আমাদের কি কি করনীয় তা যতটা পরীক্ষিত ঠিক ততটাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের কি কি করনীয় তা হাতের নাগালে এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষিত সীলমোহরকৃত সত্য। ডেঙ্গু একটি প্রাচীন রোগ। এই রোগের প্রথম উল্লেখ পাওয়া গেছে চীনের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্রে। ডেঙ্গু হল একটি তীব্র ফিব্রাইল ভাইরাসজনিত রোগ যা এডিস মশার কামড়ে সংক্রমিত হয়। বর্ষাকাল এলেই বাড়ে ডেঙ্গুর উপদ্রব। তাই বছরের অন্য সময়ের চেয়ে এই সময়ে একটু বেশি সতর্ক থাকতে হবে। বৃষ্টিপাত, জলাবদ্ধতা ও বাতাসে অত্যাধিক আদ্রতা এ মশার বংশ বিস্তারে সহায়ক। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, নালা, জলের ট্যাপ এর আশপাশের এলাকা, জলের পাম্প, ফ্রিজ- এসির জল জমার স্থান, জলের বদনা, বালতি, আইসক্রিম বক্স, প্লাস্টিক বক্স, ডাবের খোসা, টায়ার ইত্যাদিতে জমে থাকা জলে এডিস মশা জন্ম নেয় এবং বংশবিস্তার করে। এদের ডিম ফোটার জন্য জলের প্রয়োজন হয় বলে শুকনো মরশুমে এ মশা কমে যায়। এখন আমাদের কি করনীয়। উপরে উল্লেখিত স্থান গুলি নিয়ম করে পরিষ্কার করতে হবে। এবং বাড়ির ছাদ ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা জলে এডিস মশা বংশবিস্তার করে, ফলে সেখানে মশা নিধক ওষুধ ছিটিয়ে দিতে হবে। এছাড়া বাড়ির আশপাশের নর্দমা ও আবদ্ধ জলাশয়ে ওষুধ ছিটিয়ে মশা মারতে হবে। ঝোপঝাড় পরিষ্কার করতে হবে। এই কাজগুলো জনগণ ও সরকারী কেন্দ্রগুলি দায়িত্বের সহিত পালন করলেই ডেঙ্গুর আক্রমণ থেকে পাকাপাকি রক্ষা পাওয়া সম্ভব। তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃহত্তর অংশ আমাদের হাতেই রয়েছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বেশিরভাগ রোগী সাধারণত ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। তবে রোগীকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই চলতে হবে। যেন ডেঙ্গুজনিত কোন মারাত্মক জটিলতা না হয়। যদিও এই ডেঙ্গু জ্বর সাধারণত দুই থেকে পাঁচ দিন স্থায়ী হয়। জ্বর সেরে যাওয়ার পর দুই থেকে তিন দিনকে ‘ক্রিটিক্যাল পিরিয়ড’ বলে। কারণ এ সময় রোগীর অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হতে পারে। এই জ্বরের বিশেষ কোনো উপসর্গ নেই। জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের কোটরে ব্যথা, মাংসপেশী ও শিরায় ব্যথা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাল দানা দেখতে পাওয়া ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ। পূর্ণ বিশ্রাম ও জ্বর থাকলে দিনে সর্বোচ্চ চারটি প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খেতে হবে। এছাড়া বেশি করে জল ও স্বাভাবিক খাবার খেতে হবে। পাশাপাশি রক্তে ‘প্লেটলেট কাউন্ট’ পরীক্ষা করে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে (ডাক্তারের মতে)। বর্তমানে দেশে আমাদের মধ্যে জ্বর মানেই বিভিন্ন ধারণা মাথার মধ্যে এসে জমা হচ্ছে। প্রথমেই ভাবনা আসছে কোভিড-১৯। অতএব এই জ্বরটি কোন ভাইরাল ফিভার না ডেঙ্গু জ্বর, তার পরীক্ষা করা হচ্ছে না। তাছাড়া ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই আমরা বিভিন্ন ঔষধ খাচ্ছি। এর ফলে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে যখন কিছুটা বাড়াবাড়ি হচ্ছে এবং রক্তে প্লেটলেট এর মাত্রা অনেকটাই কমে যাচ্ছে। অবশেষে বলতে পারি, অযথা আতঙ্কিত না হয়ে আমরা ডাক্তারের পরামর্শ নেব এবং ডেঙ্গু জ্বরকে প্রতিহত করব। সর্বশেষ কথা, “অসুখ হওয়ার থেকে তার উৎস কে ধ্বংস করা সর্বজনবিদিত গ্রহণযোগ্য সত্য”। অর্থাৎ সরকারপক্ষ ও জনসাধারণ উভয়কে দায়িত্বশীল সক্রিয় অংশগ্রহণ এর মধ্য দিয়ে আমরা ডেঙ্গুর মত আতঙ্ককে রুখে দিতে পারি।