আলোচনা, সমাজ ও পরিবেশ

বাংলায় অজানা জ্বরের আতঙ্ক, তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা

Hits: 21

0
(0)

বটুকৃষ্ণ হালদার

করোনা একশ্রেণীর কাছে প্যানডেমিক, প্যানিক, ভুয়ো, নাটক হিসেবে পরিচিত। আবার এই আতঙ্ক সমাজের একশ্রেণীর স্বার্থবাদী মানুষের কাছে শাপে বর হয়েছে। অন্যদিকে লক্ষ লক্ষ মানুষ হয়েছেন কর্মহারা। তা সত্বেও রাজ্য সরকারের চোখের সামনে সরকারি, বিশেষ করে বেসরকারি হাসপাতালগুলো, মজুতদার, আড়তদাররা চুটিয়ে ব্যবসা করে গেল আর সরকার নীরব দর্শক। বিগত দেড় বছরে সমগ্র বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ মারা গেছে। বিশ্বের কোথাও গণচিতা, গণকবর সাজানো হয়েছে। কোথাও বা হাজার হাজার মৃত মানুষকে নিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে নদীতে বা ডোবায়। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে স্বজন হারানোর আর্তনাদ। এই অতিমারির প্রথম এবং দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিধ্বস্ত মানব সভ্যতা। তবুও যুদ্ধ করতে করতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশে ভ্যাকসিন এসে গেছে। অন্ধকারের কালো মেঘে কিছুটা হলেও আলো-আঁধারির খেলা। তবু বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা তৃতীয় ঢেউয়ের আগাম সর্তকতা জারি করে রেখেছে। তাতে বলা হয়েছে আক্রান্ত হতে পারে শিশুরা। এই রেশ কাটতে না কাটতেই অজানা জ্বরের আতঙ্ক গ্রাস করেছে পশ্চিমবাংলায়। কোচবিহার মালদা, মুর্শিদাবাদ, পুরুলিয়া সহ বিভিন্ন জায়গায় এই জ্বর হানা দিয়েছে। সমগ্র উত্তরবঙ্গ জুড়ে অজানা আতঙ্কে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্যদপ্তর থেকে শুরু করে সাধারণ বাসিন্দারা। ইতিমধ্যেই কোচবিহারের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় ১৩টির বেশি শিশু ভর্তি হন। অন্যদিকে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু মৃত্যু অব্যাহত। সাধারণ জনগণের অভিযোগ চিকিৎসা ক্ষেত্রে সঠিক পরিষেবা দিচ্ছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আবার অন্যদিকে পুরুলিয়ার হাসপাতালে কমপক্ষে প্রায় ১৭৯টি শিশু অজানা জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন। একের পর এক শিশু রোগী বেড়েই চলেছে হাসপাতালগুলোতে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ তৈরি হচ্ছে। কারণ একটাই সরকারি হাসপাতালগুলোতে বেড সংখ্যা যেমন কম তেমনি উন্নত পরিষেবা পাওয়া যায় না। তার উপরে রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কর্তব্যের প্রতি অনীহা।

এমত ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যেও সমাজের একশ্রেণীর মানুষ বারবার প্রশ্ন তুলছে স্কুলগুলো কেন বন্ধ রয়েছে? আমরা জানি ২০২০ মার্চ মাস থেকেই অতিমারি করোনার প্রভাবে সমগ্র ভারতবর্ষ জুড়ে লকডাউনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বিগত দেড় বছর যাবৎ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও আজও পর্যন্ত শিক্ষা পরিষেবা স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। এর জন্যই বারবার সমাজের বুক থেকে আঙুল উঠছে শিক্ষকদের উপর। তারা কেন বসে বসে বেতন পাবে? প্রথম অবস্থায় যখন আমরা প্রায়ই করোনা মুক্ত, ঠিক সেই সময় পশ্চিমবাংলায় বিধানসভা ভোটের পরেই হু হু করে পুনরায় উদ্বেগ সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়। অথচ যারা শিক্ষকদের দিকে আঙুল তুলছে, তাদের এতটুকুও সাহস নেই রাজনৈতিক দল গুলোকে প্রশ্ন করার যে, এই মুহূর্তে নির্বাচনটা কি খুব জরুরী ছিল? তারা সরকারের কাছে প্রশ্ন তোলে না কেন হাসপাতালগুলোর এমন বেহাল অবস্থা? কেন সরকারি শিক্ষা ব্যাবস্থা ধ্বংস? বাংলায় কবে শিল্পায়ন হবে?শিক্ষার থেকে শিশুর জীবন অনেক বেশি মূল্যবান প্রতিটি পরিবারের কাছে। এইটুকু বিষয় বোঝার মতো মানসিকতা নেই যাদের সেই নির্বোধেরা বারবার প্রশ্ন তুলছে, কেন স্কুল শিক্ষকরা বসে বসে বেতন পাচ্ছে। যদি এমত অবস্থায় স্কুল চালু করে আর স্কুলে গিয়ে কোনও শিশু যদি করোনাতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় তার দায় কে নেবে বলতে পারেন কেউ? যেখানে আমেরিকার মতো উন্নতশীল দেশে স্কুল খোলার পর হু হু করে শিশুরা আক্রান্ত হতে শুরু করেছে, দেখাবে ভারতবর্ষের অবস্থা কি হতে পারে তা উপলব্ধি করা মোটেই কষ্টসাধ্য নয়। ঝাড়খণ্ড সরকার কিন্তু ইতিমধ্যে স্কুল খোলার ব্যাপারে আগ্রহী নন, তারা সেই ঝুঁকি নিতে রাজি নন। বিষয়টা থেকে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে মানুষ নিজের মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলছে। শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে অন্যান্য পরিষেবা গুলিয়ে ফেলছে। আর এজন্যই পশ্চিমবাংলা শিক্ষাব্যবস্থা ইতিমধ্যে প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত। কারণ পশ্চিমবাংলার মানুষ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সঠিক আর বেঠিকের হিসাবটা ঠিকমতো করতে পারেনা। তবে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচিত এই মুহূর্তে ত্রিপুরার দিকে নজর না দিয়ে বা দিল্লি দখলের কথা চিন্তা না করে হাসপাতালগুলোর দিকে নজর দিলে হয় তো সময় মতো শিশুগুলো সঠিক পরিষেবা পাবে। নয় তো চিকিৎসার গাফিলতিতে হয় তো শিশু মৃত্যুতে এই বাংলা রেকর্ড গড়তে পারে। এর দায় সরকার নেবে তো?

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?

আপনার ভালোলাগা অনুযায়ী স্টার-এ ক্লিক করুন!

এই পোস্টটি রেটিং করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ!

No votes so far! Be the first to rate this post.