অপরাধ ও দুর্নীতি, আলোচনা, সমাজ ও পরিবেশ

সমাজে ভুয়ো আধিকারিকের ছড়াছড়ি, দায়বদ্ধতা কার বা কাদের

Hits: 39

0
(0)

সাফিকুল ইসলাম

দোষারোপ করবার সময় হয়তো এটা নয়, কিন্তু সমাজের উচ্চস্থানীয় আধিকারিক পদগুলো যখন ভুয়ো শব্দের কাঁটাতারে ক্রমাগত ক্ষতবিক্ষত হতে থাকে তখন সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহের দিকে কিঞ্চিৎ দৃষ্টিপাত করা নীতি-নৈতিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ভুয়ো শব্দের বাড়বাড়ন্ত এতটাই সক্রিয় যে, আসল পরিচয়ের সত্যতার দিকেও সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকানো অস্বাভাবিক কিছু নয়। কেন এমন অসামাজিক ঘটনা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে? কেন সরকারি স্তরে বা সামাজিক স্তরে এই কলঙ্কিত ঘটনা ঘটতে না দেওয়ার নির্দিষ্ট কোন কৌশল নেই? তাহলে কি এটা বলতে পারি যে, এটা খুব সাধারণ ঘটনা বা এটা ঘটতেই পারে। এমন কিছু ঘটলে আমি বা আপনি কি করতে পারি। আজকে একজন ভুয়ো আইপিএস ধরা পড়ছে তো কালকে একজন আইএএস ধরা পড়ছে। পরের দিন একজন ভুয়ো ডাক্তার, পরে একজন ভুয়ো শিক্ষক। হয়তো বা এমন একটা সময় চলে আসবে যখন আসল-নকলের বিভক্তিকরনই সম্ভব হয়ে উঠবে না। তবে এইসব ঘটে যাওয়া ঘটনার দায়বদ্ধতা কার বা কাদের? প্রশাসনিক স্তরের গাফিলতি এই সমস্ত অসামাজিক ক্রিয়াকর্মের পক্ষে পূর্ণাঙ্গ দায়বদ্ধ নয়। তাহলে ফাঁক টা কোথায়?

অবশেষে আফগানিস্তানের ভাগ্য নির্ধারণ করবে তালিবান জঙ্গিগোষ্ঠী

ফাঁক রয়েছে শিক্ষাই, শিক্ষাব্যবস্থায়। যে শিক্ষা পরিমণ্ডল থেকে ‘মূল্যবোধের শিক্ষা’ বলতে গেলে একেবারেই উবে গেছে। কেন মূল্যবোধের শিক্ষার পাত্রে শৈশব থেকে যৌবনের সময়কে লালন-পালন করতে হবে, তার একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব। চতুর্দিকে আজ মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়। প্রযুক্তিবিদ্যার অত্যাধুনিক অগ্রগতি, ভোগবাদের প্রাধান্য ও প্রগতিবাদী চিন্তাধারা, এই অবক্ষয় এর পেছনে ক্রমশ জটলা পাকিয়ে চলেছে। আর এই অবক্ষয়ের জোয়ারে মানব জাতির অস্তিত্ব বিপন্ন হতে চলেছে। এই বিপন্ন মানব জাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে গেলে একমাত্র প্রয়োজন সুস্থির মূল্যবোধের শিক্ষা। আর এই শিক্ষার শুরু সেই শৈশব থেকে। মূল্যবোধের শিক্ষাই শৈশব ধীরে ধীরে গড়ে উঠবে মানব সম্পদ রূপে। সুন্দর পৃথিবীর নেপথ্যে যে দুটি বিষয়ের উপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করা প্রয়োজন সেটি দুটি হল- এক) মূল্যবোধের শিক্ষা ও দুই) মানবসম্পদ তৈরি। স্পষ্ট হওয়া দরকার মূল্যবোধ বলতে কী বোঝায়? মূল্যবোধ হল- ভালো- মন্দ, উচিত-অনুচিত, ন্যায়-অন্যায়, সত্য-অসত্য, সৎ-অসৎ, ইত্যাদি সম্বন্ধে একটা মানসিক মানদন্ড। এই মানদণ্ড বিচার করতে হয় জীবনবোধের সার্থকতা দিয়ে। শিশুর প্রকৃত মূল্যবোধ গড়ে উঠবে শিক্ষা ও শিক্ষালয়ের মধ্য দিয়ে আর তা গড়ে তুলবে শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ, শিশুশিক্ষার দফারফা!

শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেবলমাত্র জ্ঞান, বোধ, প্রয়োগ ও নৈপূণ্য গড়ে তুলেই শিক্ষক-শিক্ষিকার কাজ শেষ হয়ে যাবে না। প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীকে গড়ে তুলতে হবে পূর্ণ মানুষ হিসেবে। ন্যায় ভিত্তিক সমাজে তাদের প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শিশুদের মূল্যবোধ গঠনের দায়িত্ব নেওয়ার আগেই শিক্ষক-শিক্ষিকার নিজের মূল্যবোধ ঠিকমতো গড়ে নিতে হবে। কারণ মূল্যবোধ বই পড়ে হয়না, জীবন থেকে জীবনে সঞ্চারিত ও সঞ্চালিত হয়। জীবনে, জীবন যোগ করা বড় কঠিন বিষয়। এই কঠিন ব্রতে শিক্ষক কুলকে দীক্ষা নিতে হবে। মূল্যবোধ থেকেই গড়ে ওঠে মানুষের মর্যাদাবোধ। কোন একজন পন্ডিত মানুষ যথার্থই বলেছেন যে মূল্যবোধ সৃষ্টি করাই মানুষের সর্বোত্তম কাজ। জীবন-যাপনে অনন্ত চাহিদা পূরণের জন্য সবাইকেই তাদের নিজ নিজ কাজের ক্ষেত্রে মূল্যবোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্বীয় ভূমিকা পালন করে যেতে হবে। এই মৌলিক মানবিক প্রতিশ্রুতি পূরণ করায় শিক্ষার দায়িত্ব অনেক। অতীতের ভুল ভ্রান্তি নিয়ে ক্ষোভ রেখে লাভ নেই, বরঞ্চ শিক্ষাদাতা তরফে শিক্ষাকে এমনভাবে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা আরো বাড়িয়ে তোলা উচিত, যাতে করে শিক্ষার্থীরা মূল্যবোধ সৃষ্টিতে আরো সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। মূল্যবোধের প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করতে গেলে যে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে অর্থাৎ ধারণাগত ভাবে প্রথম যে কথাটা পরিষ্কার করে নিতে হবে তা হল- সত্য সন্ধানের প্রসঙ্গে মূল্যবোধের প্রকৃতি। এমন অনেক দার্শনিক আছেন যারা সত্যকেই তাত্ত্বিক মূল্যের একটা রূপ হিসেবে তুলে ধরেছেন। অথবা তাঁদের মূল্যবোধ তাঁরা এমনভাবে দেখেছেন যেখানে সত্য একটি নিরবচ্ছিন্ন ধারার এক উপাদান। অতএব এখানে সত্য বা মূল্যকে বোঝার পক্ষে একটা অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। একথা খুবই স্পষ্ট যে ভালো হোক, মন্দ হোক আমরা যা শিখতে পারি তাতেই আমাদের পরিচয়। তাই ভালোর জন্য শিক্ষার পথ বেছে নেবার কারণ তো অবশ্যই রয়েছে। আমরা আগেই দেখেছি যে সুখ, পূর্ণতার বোধ, আত্মসামর্থ্য অর্জন এসব লক্ষ্য, যা শিক্ষার উদ্দেশ্য নিয়ন্ত্রণ করে তাদের সচেতন চর্চার বিভিন্ন স্তরে আমাদের অবস্থান। নিজের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশের লক্ষ্যে জীবন যাপন করায় আসলে মূল্যবোধের সৃষ্টি করা। মূল্যবোধ বিষয়ে আমাদের ধারণা পরিষ্কার করার জন্য প্রথমে যে সব ধারণা মূল্যবোধের অন্তর্গত আর যেসব ধারণা তা নয় তাদের মধ্যে তফাৎ করা দরকার। এখানে সত্য ও মূল্যবোধের মধ্যে পার্থক্য করা অত্যন্ত জরুরি এবং এদের সম্পর্ক যে আমরা যথার্থ বুঝতে পেরেছি সে বিষয়েও নিশ্চিত হওয়া চাই।

রাজ্যে বিবর্ণ কর্মসংস্থানের উত্তরণের দিশামুখ

মানুষের জীবনে যা কোন কাজে লাগে না তা নিয়ে আমাদের কোনো গরজ নেই। অনেক সময় এসব বস্তু যে আদৌ আছে তাও আমরা খেয়াল করি না। আমাদের উপরে যে সব বস্তুর কিছু না কিছু প্রভাব আছে মাত্র তাদের বেলাতেই আমাদের স্পষ্ট কোনো সচেতনতা থাকে এবং তাদের জন্যই আমাদের কোন ব্যক্তিগত গরজ তৈরি হয়। এই সব বস্তু আমাদের জীবনে যত জরুরী হয়ে দেখা দেয় ততই তাদের প্রতি আমাদের অবহেলা আরো কমে যায়। সত্য সৃষ্টি করা যায় না, প্রকৃতিতে যা সুপ্ত আমরা শুধু তাকে বার করে আনতে পারি। পক্ষান্তরে মূল্যবোধ কিন্তু আমরা সৃষ্টি করতে পারি বস্তুত মূল্যবোধ গড়ে তোলারই জিনিস। সঠিক মূল্যবোধের শিক্ষাই একটি শিশুকে মানব সম্পদ রূপে গড়ে তুলবে। সম্পদই সম্পদ সৃষ্টি করে। অধুনা বিশ্বের যাবতীয় সম্পদের সৃষ্টিকর্তা মানবগোষ্ঠী। বুদ্ধি ও শ্রম এর সমন্বয়ে এই সম্পদ সৃষ্টি হয়েছে। হাত ও মস্তিষ্কের উন্নত ও সমন্বিত ব্যবহারই পৃথিবীর এই বিশাল সম্পদ সৃষ্টিতে সাহায্য করেছে। মানব সভ্যতার ক্রম অগ্রগতির ইতিহাস থেকে এই অভিজ্ঞতা আমরা লাভ করেছি, সম্পদের সুষম ব্যবহার, সংরক্ষন, বিবর্ধন এর জন্যও শিক্ষার প্রয়োজন। শিক্ষাই সম্পদ সৃষ্টিতে সাহায্য করে আর এই শিক্ষাই সম্পদকে ইতিবাচক দিকে ব্যবহার করতে শেখায়। তাই মানব জাতিকে দেশের তথা জাতির এবং মানব সমাজের সম্পদ করতে গেলে ইতিবাচক বহুমুখী শিক্ষা প্রয়োজন। শিক্ষাই সর্ব রোগের ঔষধ। জাতীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বহুমুখী শিক্ষা জাতীয় প্রয়োজনকে পূরণ করে। এই ভাবেই আজকের শিশু, সম্পদে রূপান্তরিত হবে। শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার আলো আঁধার। শিশুকে আগামি বিশ্বে নিটোল, সুন্দর মানুষ গড়তে, মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকের ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি শিক্ষানীতি ও আধুনিক শিক্ষার ভাবধারায় অভিভাবকের ভূমিকাও কম নয়। এতদসত্ত্বেও শিক্ষক, শিশুকে মানবসম্পদ তৈরিতে মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করেন। এ বিষয়ে শিক্ষককে বিশেষভাবে সচেষ্ট হতে হবে। একটি আদর্শ শিক্ষা দর্শন ভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রয়োজন। যার মধ্যে জাতীয় ঐতিহ্য, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতান্ত্রিকতা থাকবে।

কোথায় সেই খেটে-খাওয়া মানুষের ৮ লক্ষ কোটি টাকা?

কারণ ভারত গণতান্ত্রিক দেশ। ব্যক্তিতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক নীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে শিশুর শিক্ষা কে গড়ে তুলতে হবে। এর দ্বারা শিশুর শিক্ষা সামাজিকরণ হবে ও দেশের এবং সমাজের সম্পদ হয়ে উঠবে। বিদ্যালয় জীবনের পঠন-পাঠন সারা বছরের অসংখ্য কৃৎতালির মধ্যে গণতান্ত্রিক ও সামাজিক বাতাবরণের মধ্যে শিশুর বুদ্ধি ও বিকাশ ঘটবে। পাঠক্রমের মধ্যে জাতীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সামাজিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যেই শিশু তার আত্ম সম্পর্ক খুঁজে পাবে। সৌন্দর্যবোধ, স্বাস্থ্য সচেতনতা, কর্ম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে শিশু গড়ে উঠবে কর্মী এবং বুদ্ধিজীবী হয়ে। শৈশব থেকেই কর্ম অভিজ্ঞতা তাকে সমাজের উৎপাদন ব্যবস্থায় শামিল করবে। শিক্ষা হল এমন এক বিজ্ঞান যার লক্ষ্য শিক্ষকদের মধ্য থেকে মূল্যবোধ আহরণ করা এবং এই শিক্ষকরা আবার তাদের ছাত্রদের মধ্যে মূল্যবোধ সৃষ্টিতে সহায়তা করবেন। বিজ্ঞান এই শব্দে কোন নিরীক্ষাগারের অনুভব যেন তৈরি না হয়। মনস্তত্ত্ব কিংবা সমাজ তত্ত্বের গবেষণা সরাসরি যেন প্রয়োগ করা না হয়, বদলে শিক্ষক-ছাত্রের মূল্যবোধ সৃষ্টি ও ব্যবহারে তাদের প্রাসঙ্গিকতা যেন পদে-পদে সন্ধান করা হয়। একে অবশ্যই মানবিক বিজ্ঞান হয়ে উঠতে হবে, যাতে করে শিক্ষক ও ছাত্র দু’তরফের প্রয়োজনে স্বীকৃতি যেন থাকে। মূল্যবোধ কি করে সৃষ্টি করা যাবে এ বিষয়ে একটি প্রাথমিক পরিকল্পনার বিশেষ প্রয়োজন। নির্মাণকার্য আরম্ভ করার আগে আমাদের অবশ্যই পরিকল্পনা রচনা করতে হবে। প্রকল্পের হিসাব নিকাশ করতে হবে, যাতে করে অবাস্তব ও অর্থনৈতিক বিচারে অসঙ্গতি সবকিছু এড়ানো যায়। প্রয়োজনীয় সমস্ত উপকরণ এর একটি তালিকা বানাতে হবে এবং প্রকল্পের পক্ষে যা কিছু ক্ষতিকারক ও অন্যান্য ভুলভ্রান্তি তা সব যাতে এড়িয়ে চলা যায়, সেজন্য গোটা প্রক্রিয়াটা একবার ভেবে নিতে হবে। পুনরাবৃত্ত পরিস্থিতিকে বারবার মোকাবিলা করার ক্ষমতা থাকা চাই। পূর্ব পরিচিত পরিপ্রেক্ষিত থেকে শিক্ষা গ্রহণের মেজাজ চাই এবং যেসব চিন্তা প্রণালী অতীত সাফল্য প্রতিস্ঠিত সময়মতো তাদের আবার ঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়। অতীতের সাফল্য-ব্যর্থতার ভুরিভুরি দৃষ্টান্তের মধ্য থেকে সে নিজেরই হোক কিংবা অন্যের অভিজ্ঞতা যাই হোক না কেন সাফল্যের শর্ত ও উপাদানগুলিকে ঝাড়াই-বাছাই করে নেওয়ার উপযুক্ত ক্ষমতায় দিকনির্দেশ এর প্রাথমিক উৎস। সম্পূর্ণভাবে নিজ নিজ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারার মতো শৃঙ্খলা পরায়ন যারা তারা অবশ্য সত্যিই দুর্লভ ও ব্যতিক্রমী। ওইসব ব্যতিক্রমী শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো করে তাদের কাজের বিন্যাস ও সময়সূচী বানিয়ে নেয়, যাতে করে বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে তারা মূল্যবোধ অর্জন করতে পারে। এদের কথা বাদ দিলে অন্যদের বেলায় নির্দেশ দিয়ে চালনা করবার ভূমিকা থাকে বৈকি। শিক্ষার অর্থ হল নির্দেশ দান।

প্রশ্নের মুখে মমতার মুখ্যমন্ত্রিত্ব!

তাছাড়া শিক্ষার কাজ হল অসচেতন জীবনযাপনকে সচেতন জীবনযাপনের দিকে নিয়ে যাওয়া। মূল্যহীন যাপনকে মূল্যবান যাপনের দিকে নিয়ে যাওয়া এবং অযৌক্তিক জীবন থেকে যুক্তিসিদ্ধ জীবনের দিকে নিয়ে যাবার পথে চালনা করা। কাজটা অবশ্যই খুব সোজা হবে না। কারণ আমাদের সত্তার গভীরে উপলব্ধি করতে হবে এমন অনেকগুলো জিনিস যা আমরা এখনও পরিষ্কারভাবে তেমন করে সনাক্ত করেই উঠতে পারিনি তাদের মুখোমুখি আমাদের হতেই হবে। তা না হলে শিক্ষার কোনো ভবিষ্যত নেই। নিজের নিজের ক্ষেত্রে যিনি যত বড় সম্মানিত বিদ্বান হন না কেন, অন্যান্য বিদ্যা ক্ষেত্র থেকে শিক্ষা নিতে না চাইলে সমস্যার সমাধান তো হবেই না বরঞ্চ আরো জটিলতার সৃষ্টি হবে। শিক্ষার প্রকৃত নিরিখ হবে, আমাদের জীবনের জন্য তার কাছ থেকে আমরা কি কি উত্তর পাই তার ওপর। শিক্ষানীতি নিয়ে কাটাছেঁড়া অতীতে হয়েছে, বর্তমানে হচ্ছে এবং আগামীতেও হবে। এটি শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকীকরণের একটি পন্থা। কিন্তু যে নীতি সমাজকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক করে তোলে, সমাজকে যন্ত্র বানিয়ে তোলে, সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে অসহযোগিতার বাতানুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে, সেই শিক্ষানীতির কি ভবিষ্যৎ? আমরা যারা বর্তমান শিক্ষানীতির মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছি, তারা হয়তো দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের উচ্চ আসনে বসবার মতো ক্ষমতা অর্জন করেছি কিন্তু সেই পদের যোগ্য হয়ে ওঠার মতো নির্মল মানুষ হয়ে ওঠা হচ্ছে না। একজন নিরীহ দরিদ্র মানুষ যখন তার প্রয়োজন এর সমাধানের আশায় সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে অসহনীয় শিক্ষা লাভ করে, তখনই মনে হয় সবকিছু হয়েছি, শুধু মানুষ হয়ে উঠতে পারিনি। কতটা পূর্ণতা লাভ করবে জানি না তবে মূল্যবোধের শিক্ষা শিক্ষানীতিতে জড়িয়ে রাখলে তার সুবাস বাতাসে ভেসে বেড়াবে এবং তা সকলের জন্য অত্যন্ত মধুর হবে। শিশুরা কাদামাটির মত। তাকে যেমন আকার দেওয়া যায় সে তেমন আকারে নিজেকে বদলে নেয়। শুরুটা এখান থেকেই করতে হবে। মূল্যবোধের বীজ যদি শিশুর মস্তিষ্কে বপন করতে পারা যায় তবে তা সমাজের ক্ষেত্রে অতীব মঙ্গল।

বিনামূল্যে টিকার সিদ্ধান্ত, কারণ যাই হোক

শিক্ষার উদ্দেশ্য হিসেবে মূল্যবোধ সৃষ্টি আমাদের  প্রধান মনোযোগের দাবিদার এবং আমাদের আপ্রাণ চেষ্টা তাতেই নিয়োজিত হওয়া উচিৎ। এটাই শিক্ষার প্রাণ এবং শিক্ষাদাতা হিসেবে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আহরণ করে এদিকে আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ করা উচিত। বর্তমান মানবসম্পদকে ব্যবহার করে ভবিষ্যতের জন্য এক আদর্শ সমাজ তৈরি করার চেয়ে একটুও ছোট নয় শিক্ষায় নতুন প্রাণসঞ্চার এর কাজটা। শিল্পী যেমন ক্যানভাস বা পাথরের ওপর নতুন সৌন্দর্য গড়ে তোলে, শিল্পোদ্যোগী যেমন করে কাঁচামাল কে রূপান্তরিত করে লাভজনক পণ্যে, তেমনি শিক্ষাদাতা কে বুঝে নিতে হয় সমকালীন সমাজের নানা দোষ-ত্রুটি আর তারপর নতুন প্রজন্মের জন্য এক ভালো দুনিয়া গড়ে তোলার লক্ষ্যে তাঁকে সাজাতে হবে নানা কর্মসূচি। মূল্যবোধ সৃষ্টিতে এটি প্রকৃতপক্ষে এবং সবচেয়ে জরুরি কাজ।

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?

আপনার ভালোলাগা অনুযায়ী স্টার-এ ক্লিক করুন!

এই পোস্টটি রেটিং করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ!

No votes so far! Be the first to rate this post.