আলোচনা, রাজনীতি

ব্রিটিশ সহচর মহাত্মা গান্ধী হিংসা ও কুসংস্কারের অন্ধভক্ত ছিলেন

Hits: 42

2.6
(5)

বটুকৃষ্ণ হালদার

সমগ্র বিশ্বের ইতিহাসে মহাত্মা গান্ধী স্বচ্ছতার শান্তি ও অহিংসার প্রতীক। একজন যুক্তিবাদী ও আইনজ্ঞ বটে। বিশ্ব কথা ভারতবর্ষের ইতিহাসে তিনি একজন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত। যুগ যুগ ধরে ইতিহাসে আমরা তাই পড়ে আসছি। কিন্তু আমাদের জেনে রাখা দরকার ১৯১৬ সাল পর্যন্ত ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে মহাত্মা গান্ধী বলে কোন নামের অস্তিত্ব ছিলনা। অথচ এর পরবর্তীতে তিনি ভারতবর্ষের মাস্টারমাইন্ড ও চালক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেন। এক কথায় বলতে গেলে তিনি ভারতবর্ষের প্রধান কর্মকর্তা হয়ে ওঠেন। ১৯০৫ সালে বাংলা ভাগের চক্রান্ততে উত্তাল দেশ, ১৯০৮ সালে ক্ষুদিরামের ফাঁসি, ১৯১২ সালে লর্ড হার্ডিঞ্জের উপর বোমা নিক্ষেপ করার ফলে ব্রিটিশরা অপরাধীদের ধরতে মরিয়া হয়ে ওঠেন, চারিদিকে বিপ্লবীদের নামে পোস্টার পড়তে শুরু করে, এ সময় চলছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতি ঠিক সেই ভারতের রাজনীতিতে আবির্ভূত হলেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। কে এই মহাত্মা গান্ধী হঠাৎ করে তিনি ভারতবর্ষে আমদানি হলেন একটু জেনে নেওয়া দরকার। তিনি ভারতে আসার পর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। কিন্তু প্রথম সাক্ষাতে নেতাজী সুভাষ বসুর মনঃপুত হল না। সেই কথা তিনি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসকে বললেন, “গান্ধীজীর সমস্ত ভাষা ছিল আদো আদৌ কোনও কিছু পরিষ্কারভাবে তিনি বলতে চাননি, দেশবাসীর জন্য অন্তরের ডাক ইত্যাদি ইত্যাদি যেসব কথা বললেন তা বেশিরভাগ অস্বচ্ছতায় ভরা, কিন্তু আমি আপনাকে দেখে এসেছি, আপনি যা নির্দেশ দেবেন তা আমি পালন করতে রাজি আছি”।

এবার আসা যাক গান্ধীর আফ্রিকায় কিছু কর্মকাণ্ডের কথায়। আমরা জানি তিনি আফ্রিকায় আইন নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে গিয়ে কৃষ্ণাঙ্গদের উপর নির্মম অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেন। তৎকালীন সময়ে আফ্রিকার আইনে সেখানকার অধিবাসীদের সঙ্গে ভারতবাসীদের আলাদা চোখে দেখা হতো না। তাই তিনি ভারতবাসীদের জন্য আলাদা কিছু সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করতে থাকেন। এই চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি ব্রিটিশদের সহচর হয়ে যান। এদিকে ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু হতে থাকে। এই সময়ে আফ্রিকায় বুয়োর নামে এক উপজাতি বসবাস করত। তা কিছুতেই ব্রিটিশ দাসত্ব স্বীকার করে নিতে চাইছিলেন না। তারা আন্দোলনের পথে পা বাড়িয়েছি লেন। মহাত্মা গান্ধী সেই সুযোগটা কাজে লাগায়। আফ্রিকায় বসবাসকারী সমস্ত ভারতীয়দের মিলিত করে তাদেরকে নিয়ে ব্রিটিশদের অনুচরে পরিণত হয়। তিনি ব্রিটিশ কাউন্সিলে গিয়ে তার অনুভূতির কথা জানায়, যে এই উপজাতি দমনে সশস্ত্র সেনাদলে নাম লেখাতে চায়। কিন্তু বাধ সাধল তার রুগ্ন শরীর। তাতেও কিন্তু তিনি থেমে থাকেননি। যোগ দিলেন ব্রিটিশ মেডিকেল ভ্যান টিমে। অর্থাৎ যুদ্ধক্ষেত্রে যারা আহত ও নিহত হয়ে পড়বেন তাদেরকে সেই ভ্যানে করে তুলে নিয়ে ব্যারাকে ফিরে আসতে হবে। সেই রেজিমেন্টে অবশেষে তিনি যোগ দিলেন।

মহাত্মা গান্ধীর জন্ম হয়েছিল গুজরাটে। তাই তিনি ছিলেন নিরামিষভোজী। আর মুখে ছিল অহিংসার বাণী। কিন্তু তিনি ব্রিটিশ রেজিমেন্টের যে দলে যোগদান করেছিলেন সেখানে অহিংসা নয় হিংসার বাণী প্রচলিত ছিল। ব্রিটিশদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে আফ্রিকা সেই উপজাতি পুরো ধ্বংস হয়ে যায়। এক কথায় বলতে গেলে সেই উপজাতির বর্তমানে কোন অস্তিত্ব নেই। মহাত্মা গান্ধী ছিলেন সেই রক্তাক্ত ইতিহাসের একজন জলজ্যান্ত প্রমাণ। আর মহাত্মা গান্ধী ব্রিটিশদের অনুসারী হিসেবে সহযোগিতা করার জন্য তাঁকে “কাইজার-এ-হিন্দ উপাধি” দেওয়া হয়। এই কাইজার শব্দটির অর্থ হলো জার্মানির স্বৈরাচারী অত্যাচারী সম্রাটের প্রতীক। মুখে অহিংসার ললিত বাণী গান্ধীজিকে ব্রিটিশরা হিংসার অনুসারী রূপে ব্রিটিশরা চিহ্নিত করেন। এবং পরবর্তীকালে ভারতবর্ষে তাকে দাবার চালের ঘুঁটি হিসাবে প্রেরণ করেন। সেই দাবার চাল ভারতবর্ষের প্রধান মাথা হয়ে দাঁড়ায়। আমরা ইতিহাস পড়ে মনেপ্রাণে বুঝতে পেরেছি যে স্বাধীনতা কুড়ি থেকে ত্রিশ বছর আগে আসার সেই স্বাধীনতা এলো বহু বছর পর। তার অঙ্গুলিহেলনে ভগৎ সিং, চন্দ্রশেখর আজাদের মতো বীর সন্তানদের ফাঁসি হয়েছিল। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু দেশসেরাকে দেশ ছাড়া হতে হয়েছিল। মনেপ্রাণে একথা অস্বীকার করার উপায় আমাদের আজ কারও নেই। একদিকে স্বাধীনতা আনতে দেশের সন্তানেরা যখন মৃত্যুবরণ করছে ঠিক উল্টোদিকে সবার মণিকোঠায় স্থান করে নিচ্ছে মহাত্মা গান্ধী। সবথেকে লজ্জার বিষয় আজ অফিস-ঘাট কোট-কাচারি, আইন-আদালত সমস্ত জায়গায় গান্ধীর ছবি টাঙিয়ে রাখা হয়। তাকে ভগবানের মতো পুজো করে এক শ্রেণীর মানুষ। অথচ যে মানুষগুলো জীবনের সমস্ত সুখ ঐশ্বর্য বিসর্জন দিয়ে দেশসেবায় নিয়োজিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন কিংবা দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছেন তাদের সম্বন্ধে ইতিহাস বা কতটুকু তথ্য দেয়, বলতে পারেন কেউ?

অহিংসার মুখ্য কর্তার উপরিউক্ত বর্ণিত অংশগুলো ছিল একটা দিক, তার আরও একটা দিক আছে তা হল তিনি মহান যুক্তিবাদীদের মধ্যে একজন হলেও কুসংস্কারে বিশ্বাসী ছিলেন। তার ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে একটি বিশেষ ঘটনার প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে। ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে বিহারে ভূমিকম্প হয় এতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হয়। গান্ধীজী তখনও দক্ষিণ ভারতে অবস্থান করেছেন। সেখান থেকে তিনি হরিজন’ পত্রিকায় একটি বিবৃতি প্রদান করেন, “বিহারের বর্ণহিন্দুদের অস্পৃশ্যতা পাপীই ধ্বংসলীলার মূল কারণ। রুদ্রবিধাতার কাছ থেকেই পাপের শাস্তিরূপে ধ্বংসের কঠোর শাস্তি নেমে এসেছে”। এই বিবৃতি প্রকাশের পরেই গুরুদেব চুপ করে বসে থাকেননি। উত্তরে তিনি ইউনাইটেড প্রেস ক্লাবের মাধ্যমে জানিয়ে দেন, “প্রাকৃত জড় ঘটনা সমূহের একটি বিশেষ সমবায় হইল প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের অনিবার্য এবং একমাত্র কারণ। বিশ্ব বিধানসমূহ অলঙ্ঘ্য, এই বিধানগুলোর কাজে ঈশ্বর নিজেও কোনদিন হস্তক্ষেপ করেন না। যদি করিতেন তবে তিনি নিজেই তাহার নিজের সৃষ্টির সামগ্রিক সততা নষ্ট করিয়া দিতেন। এই কথাই যদি আমরা বিশ্বাস না করিতাম তাহা হইলে বর্তমান যে ঘটনাটি ভয়াবহরূপে ব্যাপকভাবে আমাদের মর্মে তীব্র আঘাত করিয়াছে এই জাতীয় ঘটনাস্থলে বিধাতার কার্যকলাপের সমর্থন করা অসম্ভব হইয়া পড়িত”। এভাবে উভয়ের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে মতপার্থক্য ধরা পড়েছে।

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?

আপনার ভালোলাগা অনুযায়ী স্টার-এ ক্লিক করুন!

এই পোস্টটি রেটিং করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ!

No votes so far! Be the first to rate this post.