আলোচনা, রাজনীতি, সমাজ ও পরিবেশ

করোনা ট্রেন বন্ধ করে, স্কুল বন্ধ করে, ভোট বন্ধ করে না

Hits: 163

0
(0)

নরেন্দ্রনাথ কুলে

গত ১৬ মে থেকে লোকাল ট্রেনসহ সাধারণ মানুষের জন্য পরিবহণ বন্ধ। তবে রেল কর্মচারীদের জন্য স্টাফ ট্রেন চললেও তা এখন সমস্ত জরুরি পরিষেবার সাথে যুক্ত মানুষজন যাচ্ছে। করোনা বিধিনিষেধ আগামী পয়লা জুলাই পর্যন্ত ঘোষিত আছে। তার আগেই স্টাফ ট্রেনে নিত্য যাত্রীদের যেতে অনুমতি দেওয়ার জন্য সোনারপুরে পরপর দুদিন ট্রেন অবরোধ করেছে মানুষজন। করোনার প্রথম ঢেউয়ে একইভাবে ট্রেন অবরোধ হয়েছিল। কিন্তু এই মূহুর্তে ট্রেন অবরোধে রেল প্রশাসন তার সীমিত স্টাফ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না বলে রাজ্য প্রশাসনকে জানিয়েছে। আবার ট্রেনের স্বাভাবিক পরিষেবা দিতে প্রস্তুতও বলে জানিয়েছে। কিন্তু নবান্ন থেকে সাংবাদিকদের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন লোকাল ট্রেন চালানো এখনই সম্ভব নয়। কারণ হিসেবে করোনা নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে বলে। যে সমস্ত অফিস চলছে তাঁরা নিজেদের উদ্যোগে কর্মীদের কাজ করার জন্য যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছে। বাড়ি থেকে কাজ করতে পাচ্ছে মানুষ। বাজার খোলা। সব্জি বিক্রেতারা ভ্যান রিক্শায় সব্জি বিক্রি করতে পারছে। তাই এখনই লোকাল ট্রেন চালানোর প্রয়োজন মনে করছেন না তিনি। সব খোলা আছে অথচ ডেলি শ্রমিকরা না যেতে পারলে সে কাজ পাবে কি করে। শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখা থেকে শহরের অর্ধেক গৃহপরিচারিকার কাজে নিযুক্ত মহিলারা আসেন তাঁদের রোজগার একেবারে বন্ধ। বেসরকারি সংস্থার ঠিকা শ্রমিকের কাজ নেই। এমন মানুষ আছেন যাঁদের অফিস খোলা, কিন্তু তাঁদের বাড়ি থেকে আসার কোনো পরিবহন চলেনি। প্রথম ঢেউয়ে কিছু বেতন তাঁরা পেয়েছে। সরকার তা দেওয়ার জন্য ঘোষণা করেছিল। কিন্তু এবার কাজে না আসতে পারলে বেতন নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করে নি সরকার। ঠিক এই সুযোগে অনেক কোম্পানি বেতন দেয়নি। আবার অনেক কোম্পানি কাজে না এলে অন্য ব্যবস্থা দেখতে বলছে। এই লেখকের এক জানাশোনা মানুষ কাজে যেতে পারে নি বলে বেতন পায়নি। কোম্পানি জানিয়ে দিয়েছে বেতন দিতে পারবে না, পরিবর্তে লোন দিতে পারবে। যখন কাজে আসবে তখন বেতন থেকে কেটে নেবে। আট থেকে দশ হাজার টাকার বেতনে যাঁরা কাজ করেন তাঁরা বেতনের পরিবর্তে লোন হিসেবে কোম্পানির কাছ থেকে পেলে, পরে ঋণ পরিশোধের বোঝা কি তাঁদের ভারি হবে না ? ক্যাটারার ব্যবসার সাথে প্রচুর ছেলে যুক্ত যাঁরা এই করোনাকালে একেবারে সেই পেশামুক্ত। এসব কথা প্রশাসন থেকে মন্ত্রী কে না জানে। তবু রেস্ট্রিকশানের বাজারে মানুষের কাজের পরিসরের অনেক কথা তাঁরা বলেন। ঘর থেকে অফিসের কাজ কত শতাংশ শ্রমিকের সে হিসেব না থাকলেও তা কিন্তু অতি নগণ্য। করোনাকালে এই নগণ্যের প্রচারে আধিক্যের কথা থাকলেও তা নগণ্য।

স্টাফ ট্রেন অবরোধ সেই নগণ্যদের। তবু লোকাল ট্রেন চালু করা যাবেনা বলে নবান্ন বলে দিয়েছে। কিন্তু রেল স্টাফ ট্রেন বাড়ানোর কথা অলরেডি বলে দিয়েছে। না, এই ট্রেনে যা ভিড় হচ্ছে তা সরকার কখনো এড়িয়ে যেতে পারে না। করোনা সংক্রামণ বৃদ্ধির নামে লোকাল ট্রেন বন্ধ কিন্তু স্টাফ ট্রেনের সংখ্যা বাড়ছে। বকলমে যা সংক্রমণ বাড়াতে পারবে না কে বলতে পারে। এখন মানুষ মরিয়া কাজে যাওয়ার জন্য। এই ট্রেনের ভীড় তাই বলছে।

ট্রেনে ভীড় হলে করোনা বাড়বে। স্কুল খোলা থাকলে করোনা বাড়তে পারে। এগুলো বন্ধ রেখে করোনার সংক্রমণের সংখ্যা কমে কিন্তু নিরাময় হয় না। ভোট হলে করোনা সংক্রমণ বাড়ে, তবু ভোট বন্ধ রাখা যাবে না। বিধানসভা ভোটে সংক্রমণ তিন শতাংশ থেকে তেত্রিশ শতাংশ বেড়েছিল। আর এখন যখন সংক্রমণ দশ শতাংশের নীচে নেমে গেছে, তখন সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন চাইছেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচনে সাতদিন প্রচারের সময় দিলে চলবে বলে বলেছেন। আর উপ নির্বাচনের দিন ঘোষণা হলে পুরসভার ভোটের কথা ভাববেন বলেছেন। করোনা সংক্রমণ কমলে ভোট হতে পারে, কিন্তু ছাত্রদের পরীক্ষা হতে পারে না। আসলে ভোট হল উন্নয়নের আর এক নাম। সেই উন্নয়নে মানুষের কাজে, জীবনে একটু ব্যাঘাত হতে পারে। ছাত্রদের জীবনের স্বাভাবিকতা একটু নষ্ট হতে পারে। তা বলে ভোট বন্ধ রাখা যাবে না। তা সময়ে শেষ না করলে সমাজ স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে।

লোকাল ট্রেন বন্ধ রাখলে করোনা থেমে থাকবে, সঙ্গে মানুষের জীবন থেমে থাকবে। তা থাকুক। শুধু ভোট সময়ে হবে। নিয়ম অনুযায়ী মাননীয়াকে ছ’মাসের মধ্যে জিতে আসতে হবে। কিন্তু তা আগামী অক্টোবর পর্যন্ত। তাহলে ? আসলে তৃতীয় ঢেউ আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। তাই হয়তো তার আগে নির্বাচন সেরে ফেলতে হবে। তিনি কি রেস্ট্রিকশানে নির্বাচনের প্রক্রিয়া চাইছেন ? কেন চাইছেন তা এখনো পরিষ্কার করে বলেননি। তবে একে কম কেন্দ্রের নির্বাচন, তার ওপর করোনা সংক্রমণ বেশ কমের দিকে বলেই তিনি একথা পরিষ্কার করে বলেছেন। করোনা-কমে ভোট ছাড়া সব বন্ধ থাকলে আরো সংক্রমণ যে কমতে পারে এ কথাই হল তাঁর সার কথা।

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?

আপনার ভালোলাগা অনুযায়ী স্টার-এ ক্লিক করুন!

এই পোস্টটি রেটিং করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ!

No votes so far! Be the first to rate this post.