সমাজ ও পরিবেশ

পশ্চিমবাংলায় বাঙালি নিজেই ধ্বংস করছে সভ্যতা, সংস্কৃতি

Hits: 195

বটুকৃষ্ণ হালদার

প্রাকৃতিক পরিবেশের কাছে মানব সভ্যতা অতি তুচ্ছ তা প্রমাণ করে দিয়ে গেল অতিমারি করোনা। তার সঙ্গে কোনও উপহাস চলে না। ঠিক তেমনই যখনই অধার্মিক, অত্যাচারী, অসত্যের খাঁড়া নেমে এসেছে সাধারণ নিরীহ জনগণের উপর, ঠিক তখনই কোনও না কোনও অবতার সামনে এসে মুক্তি দিয়েছে। তখন থেকেই সে মর্তলোকে পূজিত। বাঙালি সবথেকে বড় আবেগের উৎস হল দুর্গাপূজা। এই জগৎ মাঝারে যুগ যুগ ধরে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে অসুর বিনাশ হিসেবে। বছরে এই কয়েকটা দিন আমরা সবাই অপেক্ষা করে থাকি। শুধু বাঙালি নয়, জাত ধর্ম নির্বিশেষে এই উৎসবের আনন্দ উপভোগ করা হয়।

বাঙালির আবেগে আঘাত করল হিন্দুরা। অবশেষে একজন জলজ্যান্ত মানবীর মুখের আদলে দুর্গার মূর্তি বানানো হয়েছে বাঙালি সংস্কৃতির পীঠস্থান কলকাতাতে। বাগুইহাটি নামক জায়গা ক্লাবে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর মুখের আদলে মূর্তি বানানো হয়েছে। এরপর মালদার একটি ক্লাবে মুখ্যমন্ত্রীর মুখের আদলে দুর্গার কোলে বসানো হয়েছে সিদ্ধিদাতা গণেশকে। দমদমের ক্লাবে জুতোর প্যান্ডেল বানানো হয়েছে। এটাই কি বাঙালি সংস্কৃতি? যে বাঙালি যুগ যুগ ধরে প্রাচীন ধর্ম ও সংস্কৃতির কথা বলে সমস্ত জায়গায় শান দিয়ে আসছে, খোদ কলকাতায় বাঙালিরা অপ-সংস্কৃতির দাস হয়ে উঠছে। অথচ আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী অবাঙালি হয়েও গতবছর পুজোয় ধুতি-পাঞ্জাবি পরে অঞ্জলি দিয়ে বাঙালি ধর্ম ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখার বার্তা দিয়েছেন। একজন মানবীর মুখের আদলে দেবী দুর্গার মুখ কিভাবে প্রতিষ্ঠা পায় কেউ বলতে পারেন।

তবে বাঙালির সংস্কৃতির ধ্বংসের নদীভাঙ্গা বহুবার দেখেছি। বাম আমলে ৩৩ বছরের শাসনের এখন স্টোর কর্মকর্তা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য মহাশয় সম্প্রীতির বার্তা দিতে কলকাতার রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে গরুর মাংস খেয়েছিলেন। সঙ্গে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীরা ও ছিলেন। এ চিত্র সমস্ত পশ্চিমবাংলার সংস্কৃতির ধারক বাহকরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছিলেন। সে সময় কোন প্রশ্ন করেন কেউ। অথচ এরাই মুখে বড় বড় ভাষণ দেন আমরা পশ্চিমবাংলার সভ্যতা-সংস্কৃতি কে বাঁচিয়ে রেখেছি। কিন্তু বিশ্বের বহু সংখ্যাগুরু র দেশে প্রতিনিয়ত সংখ্যালঘু হিন্দুরা মারা যাচ্ছেনির্যাতিত হচ্ছে, জোর করে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে, বিতাড়িত করা হচ্ছে সেই সমস্ত দেশগুলো থেকে কখনোই দেখেছেন সম্প্রীতির বার্তা দিতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে শুয়োরের মাংস খাচ্ছে।

হিন্দু সভ্যতা সংস্কৃতি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আক্রান্ত হিন্দুদের দ্বারা। শিব লিঙ্গের মাথায় কনডম পরানো বাঙালি জনপ্রিয় অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ বর্তমানে কোন রাজনৈতিক দলের আশ্রিত ভবিষ্যৎ জনো নেত্রী। হিন্দু ধর্মের অন্যতম দেবতা শিবের ত্রিশূল এর মাথায় কনডম পরিয়ে কবিতা লিখেছিলেন কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বর্তমানে একজন সুপ্রতিষ্ঠা সাহিত্যিক হয়ে উঠেছেন। বাঙালি ধর্মের দুর্গা মন্ত্র ভুল উচ্চারণ করা ব্যাক্তি একজন মন্ত্রী যিনি এই পশ্চিমবাংলাতে মিনি পাকিস্তান বানাতে চান। এসব নিয়ে হিন্দুদের কোন মাথা ব্যথা নেই। এভাবেই নিজের ধর্ম সংস্কৃতি কে অপমান ও বিকৃতি করার ফলে পশ্চিম বাংলার বুকে তার জনপ্রিয়তা বহুগুণে বেড়ে যায়। অন্যদিকে আমরা দেখেছি নিজের ধর্মের স্বমহিমা ও সততা বজায় রাখতে ধর্মের নামে মানুষ খুন করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে মোহাম্মদ নবীর ছবি বিকৃত করার ফলে মৌলবাদীরা ফ্রান্সের রাস্তায় প্রকাশ্যে এক শিক্ষককে গলাকেটে হত্যা করেন। এটাই হলো হিন্দু ধর্ম ও মুসলিম ধর্মের মধ্যে তফাৎ। কারণেই সেই সুযোগটা নিয়ে সমগ্র বিশ্বে চলছে হিন্দু নিধনের পালা। এরপরেও হিন্দুরা মুখে হিন্দু ধর্ম সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখার জন্য চেঁচায়। তাই আগামী ভবিষ্যতের জন্য হিন্দুদের সজাগ হতে হবে। কারণ পাকিস্তান বাংলাদেশ সহ বহু দেশে হিন্দু ধর্মের প্রতি চলছে অবিচার। প্রতিনিয়ত মূর্তি মন্দির ভাঙ্গা হচ্ছে।

এরপরেও যদি বাঙালিদের হুঁশ না ফেরে আগামী ভবিষ্যতের এই পশ্চিমবাংলা থেকে বাঙালিদের বিতাড়িত হতে হবে। বাঙালি হয়ে যাবে উদ্বাস্তু। কারণ ইতিমধ্যেই এই ভারতবর্ষের পশ্চিমবাংলায় হিন্দুরা কিন্তু সুরক্ষিত নয়। পশ্চিমবাংলায় ইতিমধ্যেই ১০ থেকে ১২টি দাঙ্গা হয়ে গেছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ পশ্চিমবাংলা সরকারের হিন্দুধর্মের প্রতি উদাসীনতা। সবই হলো ভোট ব্যাংক। নিজেদের ক্ষমতা লাভের জন্য পশ্চিমবাংলায় হিন্দুদের প্রতি চলছে অবিচার আর এক শ্রেণীর বিশেষ ধর্মের প্রতি সরকারের সহানুভূতি বেড়ে চলেছে দিন দিন। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সেই শ্রেণীর শিক্ষিত যুবকদের দেদার নিয়োগ চলছে। এভাবে চলতে থাকলে পশ্চিমবাংলা থেকে একদিন হিন্দু ধর্ম-সংস্কৃতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে সে বিষয়টা নিশ্চিত হবে বোঝা যাচ্ছে।