আলোচনা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সমাজ ও পরিবেশ

ক্রমাগত প্রসারিত হতে থাকা এ অনন্ত বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে আমরা কি একা?

Hits: 13

0
(0)

তন্ময় সিংহ রায়

মানুষের মানসিক বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে কৌতূহল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, অর্থাৎ এ একপ্রকার উল্লেখযোগ্য মানসিক চঞ্চলতা বলা যেতেই পারে। আর প্রাগৈতিহাসিক যুগে এই কৌতূহলই একসময় জন্ম দিয়েছিল আগুনের, অন্তত ইতিহাস তো আজও বলে তাই।

প্রতিদিনের দাঁত ব্রাশের মতন, দীর্ঘদিন ধরে পৃথিবী ও বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বিভিন্ন কারণ বা রহস্যের অনুসন্ধান করাও আজ ঠিক তেমনই পরিণত হয়েছে মানুষের এক বিশেষ স্বভাবে। কিন্তু অতিরিক্ত আগ্রহ বা কৌতূহল, আর তা থেকে কারণ অনুসন্ধান কোনও কোনও ক্ষেত্রে আবার ডেকে আনতে পারে সমূহ বিপদ! আর এ কারণেই বিশ্বখ্যাত তাত্ত্বিক পদার্থ ও গণিতবিদ, মহাবিশ্বতত্ত্ববিদ এবং বিজ্ঞান লেখক স্টিফেন হকিং তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রেডিকশনস্ বা ভবিষ্যৎবাণীগুলোর মধ্যে একটিতে কিন্তু স্পষ্টতই আগেভাগে জানিয়ে গেছেন যে, বাইরের জগতের কোনো প্রাণীর সাথে এভাবে যোগাযোগ না করাই আমাদের জন্যে মঙ্গল।

‘Stephen Hawking’s Favorite Places, ‘ নামক এক ডকুমেন্টারিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘Intelligent aliens may be rapacious marauders, roaming the cosmos in search of resources to plunder and planets to conquer and colonize.’ ‘One day, we might receive a signal from a planet like this, But we should be wary of answering back. Meeting an advanced civilization could be like Native Americans encountering Columbus. That didn’t turn out so well.’

যাইহোক, এখন প্রশ্ন হল উন্নত প্রজাতি হিসেবে এই অনন্ত বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে আমরাই কি একমাত্র জীব? না কি ভিন গ্রহে থাকতেও পারে আমাদের মতন বা আমাদের থেকেও উন্নত অন্য কোনো প্রাণীর অস্তিত্ব? দীর্ঘদিন যাবৎ মহাকাশচারী ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে আগ্রহ বা কৌতূহল, জল্পনা-কল্পনা কিংবা তর্ক-বিতর্কের নেই কিন্তু বিন্দুমাত্র অবসান।

এই তো কিছুদিন আগেই প্রায় ৩০ টি বছর ইসরায়েলের স্পেস সিকিউরিটি প্রোগ্রামে নেতৃত্বদানকারী হাইম ইশেদ, ইসরায়েলের ‘ইয়েদিওট আহরোনোঠ’ পত্রিকাতে স্পষ্ট দাবি করছেন যে, আমেরিকা ও ইসরায়েল ভিন গ্রহের প্রাণীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই যোগাযোগ রেখে চলেছে সংগোপনে, যা বেমালুম জানেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁরা তাঁদের অস্তিত্বকে আজও আনতে চান না বিশ্ববাসীর সামনে। এমনকি, ভিন গ্রহের প্রাণীদের নিজস্ব একটি সংস্থাও রয়েছে, যে সংস্থার নাম ‘গ্যালাকটিক ফেডারেশন। ‘ সংস্থাটি সাধারণত গবেষণা করে থাকে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বিভিন্ন জটিলতম ও রহস্যময় বিষয়গুলোকে নিয়েই, আর এ ব্যাপারে তাঁদের যথাসাধ্য সাহায্য করছেন আমেরিকা ও ইসরায়েলের মহাকাশচারী ও বিজ্ঞানীরাই। তিনি পত্রিকাতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন এও যে, মঙ্গল গ্রহের মাটির নিচে গোপনে গবেষণা চালায় ভিনগ্রহের এই প্রাণীরা। এবং সেখানেই গবেষণায় তাঁদের সাহায্য করেন এই সমস্ত বিজ্ঞানীরা।

একটা সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রকাশ করে ফেলেছিলেন এই গোপন তথ্য, কিন্তু এতে নাকি ঘোরতর আপত্তি ছিল স্বয়ং ভিনগ্রহের প্রাণীদেরই, আর তাই কার্যত গোটা বিষয়টিকে যথাসম্ভব ধামাচাপা দিতে হয়েছে খোদ প্রেসিডেন্টকেই।

ইশেদ আরও দাবি করেছেন যে, বিজ্ঞানীদের সাথে ভিনগ্রহের প্রাণীদের সম্পন্ন হয়েছে এক দীর্ঘ চুক্তি, আর সেই চুক্তির শর্ত হল এই যে, ভিনগ্রহীদের সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের যাবতীয় তথ্য পৃথিবীর মানুষকে জানাতে পারবেন না বিজ্ঞানীরা।

এছাড়াও ১৯৪৭ সালে জুলাই-এর প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর রসওয়েল-এ প্রথম যখন UFO দেখা যাওয়ার খবর প্রচারিত হয় ব্যাপকভাবে, তারপর থেকেই প্রায় সমগ্র বিশ্বব্যাপী এটিই ওঠে সবচেয়ে আলোচিত, গুরুত্বপূর্ণ ও রহস্যময় একটি বিষয় হয়ে।

তাছাড়া এরিয়া ৫১-এ কুখ্যাতি অর্জন করা আমেরিকান একজন ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিক রবার্ট স্কট লাজার কিংবা বব লাজার ১৯৮৯ সালের মে মাসে লাস ভেগাস টেলিভিশন স্টেশন ‘KLAS’ -এ এক তদন্তকারী সাংবাদিক জর্জ ন্যাপ- এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে দাবী করে বসেন যে, তিনি কিছুদিনের জন্য কাজ করেছিলেন এরিয়া-৫১-এরই একটি অংশে, যার নাম S-4. জায়গাটি ছিল এতটাই গোপনীয় যে, ঐ প্রজেক্ট-এ তিনি ও তাঁর অন্যান্য সহকর্মীদের নিয়ে আসা হয়েছিল যে গাড়িটিতে করে, সেই গাড়িটির দরজা-জানালাগুলো বন্ধ ছিল এমনভাবে, যাতে তাঁরা যাতায়াতের রাস্তা পর্যন্ত মনে রাখতে না পারেন এবং S-4 এর বিমান ছাউনিতে এমন সব ফ্লাইং সসার তিনি দেখতে পেয়েছিলেন যেগুলো কোনোভাবেই তৈরি হতে পারে না এ পৃথিবীতে। প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে বব লাজার এও দাবী করেন যে, ভিনগ্রহের প্রাণীদের নাকি এরিয়া ৫১-তে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ঠিক জেলখানার আসামীদের মতই। একদা S-4 এর একটি হলওয়ে দিয়ে যাওয়ার সময়ে, একটি ঘরের ছোট্ট জানালা দিয়ে অল্প সময়ের জন্য উঁকি দিয়ে, ধূসর বর্ণের এক অদ্ভুৎ প্রাণীকে সাদা কোট পরিহিত দুজন মানুষের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেও আবিস্কার করেন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ শেষ পর্যন্ত তাঁকে হারাতে হয় এরিয়া-৫১-এর চাকরি।

বলাবাহুল্য, আমেরিকার সামরিক বাহিনীর হাতে গুলি খাওয়া এক বহির্জাগতিক পাইলটের এর সাথে টেলিপ্যাথির মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছেন এরিয়া-৫১-এর একজন অফিসার, এমনও এক অস্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ ধারণ করেছিলেন এরিয়া-৫১-এ কর্মরত ভিক্টর নামক এক ব্যক্তিও।

শুধু তাই নয়, ১৯৯৫ সালে রে স্যানটিলি নামক ব্রিটিশ টেলিভিশন, ফিল্ম ও রেকর্ড প্রোডিউসার-এর মাধ্যমে ‘এলিয়েন অটোপসি’ নামক ১৭ মিনিটের এক সাদা-কালো ভিডিও জনসমক্ষে প্রকাশিত হয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় রসওয়েল ঘটনায় UFO থেকে উদ্ধারকৃত এলিয়েন-এর মৃতদেহ নিয়ে ডাক্তাররা কাটা-ছেঁড়ার মাধ্যমে চালাচ্ছেন ময়না তদন্ত, আর ভিডিওটি প্রকাশ পাওয়ার প্রায় সাথে সাথেই সমগ্র বিশ্বব্যাপী শুরু হয় ঘুমন্ত আগ্রহ-উত্তেজনা ও সংবেদনের তুমুল রেনেসাঁস! যদিও পৃথিবীবাসীর চোখে ধুলো দিয়ে, পরবর্তীকালে সরকার এটিকে উড়িয়ে দেন ধাপ্পাবাজি বলে।

সর্বশেষ এটুকুই বলার যে, ব্যক্তিগতভাবে আমি তো অন্তত বিশ্বাস করি যে, ভিন গ্রহের প্রাণীদের অস্তিত্ব আছে তো বটেই, এবং প্রায় দীর্ঘদিন ধরেই পৃথিবীর অল্প কিছু সংখ্যক বিজ্ঞানী বিশ্ববাসীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে অত্যন্ত গোপনে ও কৌশলে ক্রমাগত যোগাযোগ রেখে চলেছেন ভিনগ্রহের প্রাণীদের সাথে।

আর হতেও পারে বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং-এর ভবিষ্যৎ বানী অনুযায়ী এর পরিণাম ভয়াবহ!

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?

আপনার ভালোলাগা অনুযায়ী স্টার-এ ক্লিক করুন!

এই পোস্টটি রেটিং করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ!

No votes so far! Be the first to rate this post.